যশোরে ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে গুমের মামলা প্রত্যাহার

আপডেট: 07:43:34 15/11/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী হীরা খাতুন।
ছেলেকে অপহরণের পর দাবিকৃত ঘুষের টাকা না পেয়ে হত্যা ও গুমের অভিযোগে যশোর কোতয়ালী থানার ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করেছিলেন শহরের শংকরপুর এলাকার হীরা খাতুন। আদালত হীরা খাতুনের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশও দিয়েছিলেন।
এর ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আজ বুধবার হীরা একই আইনজীবীর মাধ্যমে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
হীরা খাতুনের আইনজীবী অজিতকুমার দাস বলেন, ''বাদী নিজে এসে মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান। বাদী আবেদনে লিখেছেন, 'আসামিদের সাথে মীমাংসা হওয়ায় এবং আসামিরা এ ঘটনার সাথে জড়িত না বুঝতে পেরে আমি এ মামলা চালাতে ইচ্ছুক নই।' পরে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করেন।''
যশোরের সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন, মামলা প্রত্যাহারের অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাছাড়া যে আদালত মামলা গ্রহণ করেছেন সেই আদালতেই তদন্তে থাকা মামলা আইনগতভাবে প্রত্যাহার হতে পারেন না।
মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের পরিচালক (তদন্ত) আবুল কাশেম বলেন, `ছেলেকে না পেয়ে তার মা আদালতে নালিশি পিটিশন করেছেন; আদালত তা তদন্তের জন্যে নির্দেশও দিয়েছেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই তা প্রত্যাহার করার পেছনে নিশ্চয় কোনো চাপ আছে।'
তিনি বলেন, 'বিচারক এই পিটিশন মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়ে আবার তা প্রত্যাহার করছেন- যা আইনসিদ্ধ নয়।'
যশোর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম বাচ্চু বলেন, ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটলে বিষয়টা মানুষ স্বাভাবিকভাবে দেখে না। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। মামলার নিজস্ব গতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেই মানুষ মনে করছে।'
তিনি বলেন, ‘এ মামলার আসামিরা ক্ষমতাবান। পেছনে এমন একটা কিছু কাজ করেছে যাতে মামলা প্রত্যাহারে দেরি হয়নি।’

আরও পড়ুন