কালনা সেতুর কাজ শিগগির শুরু

আপডেট: 03:01:20 20/10/2017



img
img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : অবশেষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালনা সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ২০ নভেম্বর দরপত্র গ্রহণের শেষ দিন। এরপর যাচাই-বাছাইসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগির মধুমতি নদীর ওপর এ সেতুর কাজ শুরু হবে। ছয় লেনবিশিষ্ট সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৬৯০ মিটার এবং প্রস্থ ২৮ দশমিক ৫ মিটার।
সেতুটি নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব অনেক কমবে। স্থাপিত হবে বেনাপোল-নড়াইল-পদ্মা সেতু-ঢাকা-সিলেট-তামাবিল ‘আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এই প্রকল্পের অধীনে নড়াইলের কালনা এবং গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া অংশে ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে যৌথ পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এই সেতু নির্মিত হবে।
সেতুটি নির্মিত হলে খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার সঙ্গে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের যাতায়াত সহজ হবে। কমবে সময় ও জ্বালানি খরচ।
সরকারের আশা, সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি পরিবহন ও বিপণন সহজ হবে। চাঙ্গা হবে অর্থনৈতিক কর্মকা-। এর সুফল পাবে খুলনা বিভাগ ও আশেপাশের অন্তত ২০টি জেলার কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সর্বসাধারণ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি একনেক সভায় ২৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নড়াইল-গোপালগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী মধুমতি নদীর ওপর কালনা ঘাটে চার লেন বিশিষ্ট কালনা সেতু প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এর এক বছর পর ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু এর পৌনে তিন বছর পর জাইকার সহায়তায় নতুন নকশায় এবং বৃহৎ বাজেটে ছয় লেন বিশিষ্ট এ সেতু নির্মিত হচ্ছে।
কালনা সেতুর স্থান পরিদর্শনে একাধিকবার এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, কালনা সেতুর মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দর-যশোর-নড়াইল-পদ্মা সেতু-ঢাকা-সিলেট-তামাবিল সড়কের মাধ্যমে ‘আঞ্চলিক যোগাযোগ’ স্থাপিত হবে। তিনি বলেন, সেতুটি ভালোভাবে নির্মাণ করা হবে বলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্মসম্পাদক ও খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির কার্যকরী সভাপতি ছাদেক আহম্মেদ খান বলেন, ‘কালনা সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বেনাপোলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সহজ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে।’
নড়াইল জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ মুনীর হোসেন বলেন, ‘কালনা ফেরিঘাট দিয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা, বেনাপোল, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সড়কে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু বেশির ভাগ সময় আধাঘণ্টার বেশি সময় দেরিতে ফেরি এপার-ওপারে ছেড়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য, মাছ, ফলসহ পচনশীল পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়। যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেতুটি নির্মিত হলে এসব ভোগান্তির অবসান হবে।’
নড়াইল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী জহিরুল হক জানান, নড়াইল থেকে ঢাকার দূরত্ব ১২৭ কিলোমিটার, বেনাপোল-ভায়া কালনা-ঢাকা ২০১ কিমি, যশোর-ঢাকা ১৬১ কিমি, খুলনা-বসুন্দিয়া-কালনা-ঢাকা ১৯০ কিমি। অথচ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকা যেতে স্থানভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। সেতুটি নির্মিত হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে।’
সেতু বাস্তবায়নকারী প্রকল্প ‘ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট বাংলাদেশ’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুমন সিংহ জানান, প্রথমদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সেতুটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও পরে নকশা পরিবর্তনের কারণে জাইকার সহযোগিতা চাওয়া হয়। এ কারণে সেতু নির্মাণে বিলম্ব ঘটছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ২০ নভেম্বর দরপত্র গ্রহণের শেষ দিন। এই দিন দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি।

আরও পড়ুন