বিয়ের আয়োজন ভেঙে দিলেন ইউএনও

আপডেট: 06:57:48 19/03/2018



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাড়িময় আত্মীয়-কুটুম্ব। চলছে খানাপিনা। মাইকের হাক-ডাকে মুখর গ্রাম। বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। প্রস্তুত বর, প্রস্তুত কনে। ঠিক এমন সময়ে পুলিশ নিয়ে হাজির দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজ আল আসাদ। এসেই ঘোষণা- ‘এ বিয়ে হবে না। মেয়েটির শিক্ষাজীবন রক্ষা করতে হবে।’
রোববার রাত দশটায় এ ঘটনা ঘটে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা গ্রামে। কনে শারমিনও আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলে উঠলো, ‘আমি লেখাপড়ার করবো।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজ আল আসাদ জানান, স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার। ‘ভালো ছেলে পেয়েছি, পরে আর পাওয়া যাবে না’- এই চিন্তায় শারমিনের সঙ্গে তার বাবা বিয়ে ঠিক করেন পাশের কোড়া গ্রামের এক তরুণের। এ খবর জানতে পেরে তিনি পুলিশের কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আরমান হোসেনকে নিয়ে হাজির হন বিয়েবাড়িতে। তিনি কনের বাবাসহ অন্যদের বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে বলেন। মেয়েটির লেখাপড়া নষ্ট হবে, ভবিষ্যৎ ভালো হবে না বলেও জানান। অল্প বয়সে মা হলে তার ও নবজাতকের স্বাস্থ্যহানি ঘটবে। দুটি জীবন বিপন্ন হওয়ারও আশংকা থাকবে। দুটি পরিবারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
ইউএনও জানান, তার কথায় সম্মত হয়ে বাবা সলেমান ও তার স্ত্রী ‘প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না’ বলে মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন। ভেঙে যায় বিয়ের সব আয়োজন।

আরও পড়ুন