শামীম ওসমান সমর্থকরা পেটালো মেয়র আইভীকে

আপডেট: 02:16:33 17/01/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু সমর্থকরা মানবদেয়াল তৈরি করে লাঠি ও ইটপাটকেলের আঘাত সহ্য করে মেয়রকে প্রাণে রক্ষা করেছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরে এই ঘটনা ঘটে।
বিকেল চারটা থেকে হকার ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকদের সঙ্গে মেয়রের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া এলাকা পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশ প্রায় ৩০০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও বেশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
এ ঘটনায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার চেয়েছেন মেয়র আইভী। বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিকেল চারটার দিকে মেয়র আইভী নগর ভবন থেকে বের হয়ে নগরীর বঙ্গবন্ধু রোডের ফুটপাত দিকে হাঁটতে শুরু করেন। এ সময় তার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেশ কিছু সমর্থক ছিলেন। পুলিশও তাদের সঙ্গে থাকে। একপর্যায়ে আইভীর সমর্থকরা ফুটপাতে হকারদের বসতে নিষেধ করলে প্রথমে হকাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তখন হকারদের সঙ্গে আইভীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। চাষাঢ়া এলাকায় শামীম ওসমানের সমর্থকরা হকারদের সঙ্গে যোগ দেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হকার ও শামীম ওসমান সমর্থকদের হামলার মুখেও মেয়র আইভী বঙ্গবন্ধু সড়কে অনড় অবস্থান করেন। এ সময় তারা মেয়র আইভীর ওপর হামলা চালালে সমর্থকরা  মানবদেয়াল তৈরি করে তাকে ঢেকে রাখে। এ সময় তাদের ছোড়া ঢিলে মেয়র আইভী আহত হন।
পরে হকারদের সমর্থনে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান রাজপথে নেমে আসেন। তিনি হকারদের পক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে আহত আইভী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে অবস্থান নেন। পরে আইভীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে তার সমর্থকরা জানিয়েছেন।
পুলিশ প্রায় ৩০০ ফাঁকা গুলি ও বেশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর থেকে এখনো নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মেয়র আইভী অভিযোগ করেছেন, শামীম ওসমানের নির্দেশে তার বাহিনী হঠাৎ করে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে।
তিনি দাবি করেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আবু সুফিয়ান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জ্বল, শহিদুল্লাহসহ ৩০ জন আহত হয়।
আইভী আরো বলেছেন, ফুটপাথ জনগণের জন্য মুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে শামীম ওসমান একজন এমপি হয়ে কীভাবে ফুটপাথে হকারদের বসার নির্দেশ দেন? গতকাল শামীম ওসমান নগরীর চাষাঢ়ায় জনসভা করে হকারদের বসার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তার পক্ষ নেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার একটি গার্মেন্ট কারখানায় গিয়ে মিটিং করেন।
আইভী অভিযোগ করে আরো বলেন, 'শামীম ওসমান লাশের রাজনীতি করেন। তিনি মেধাবী ছাত্র ত্বকীকে হত্যা করেছেন। তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান নাট্যকার চঞ্চলকে হত্যা করেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে হবে।'
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, 'হকার উচ্ছেদ করে  মেয়র আইভী অন্যায় করেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে হকারদের বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বসার নির্দেশ দিয়েছেন।'
সূত্র : এনটিভি