যশোরে ‘গায়েবি মামলা’, গ্রেফতার বাচ্চু-শিশির

আপডেট: 10:11:08 13/10/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বিএনপির ১৭ নেতাকর্মীর নামে ফের ‘গায়েবি মামলা’ হয়েছে। এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুসহ চারজনকে। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি হাতবোমা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
আটক অপর তিন আসামি হলেন, ষষ্ঠিতলা বুনোপাড়া এলাকার মৃত জহিরুল হকের ছেলে আজিজুর রহমান শিশির, বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার মৃত আদু সরদারের ছেলে শুকুর আলী এবং একই এলাকার শওকত আলী খানের ছেলে আজগর আলী খান।
এছাড়া খালধার রোড পণ্ডিতপুকুর এলাকার বাসিন্দা এবং যশোর কলেজের শিক্ষক মোস্তফা মাহমুদুল হককে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু পরে যাচাই-বাছাই করে ওই কলেজের শিক্ষক এবং যশোরের সুশীল সমাজের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি অপূর্ব হাসান।
মামলায় তালিকাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, চাঁচড়া গোলদারপাড়া এলাকার শামসু গোলদারের ছেলে টিটো, ফন্টু গোলদারের ছেলে সজীব, চাঁচড়া মধ্যপাড়ার মৃত ভোগোর ছেলে স্বাধীন, ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার চেরাগ আলীর ছেলে হাবিব, মৃত লতিফ মোড়লের ছেলে মোজাহার আলী নান্না, চাঁচড়া কলোনিপাড়ার মৃত মোনাজাত মোড়লের ছেলে সোহরাব হোসেন, চাঁচড়া মোড় এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হোসেন টিটো, চাঁচড়া পশ্চিমপাড়ার শফি উদ্দিন খলিফার ছেলে ছমির উদ্দিন, একই এলাকার শাওন কবির, চাঁচড়া বাজার এলাকার মৃৃত শফি মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন, শাহীন খান মাস্টারের ছেলে ফোক্কা, চাঁচড়া রায়পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে রানা এবং কাজীপুর এলাকার চুন্নু।
কোতয়ালী থানার এসআই হাসানুর রহমান দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে গোপন সূত্রে সংবাদ আসে, শহরের ষষ্ঠিতলা বুনোপাড়া এলাকায় আসামি আজিজুর রহমান শিশিরের বাড়িতে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গোপন বৈঠক করছেন। তারা গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করছে। সেখানে গিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। এরপর ওই বাড়ির মধ্যে একটি ঘরের খাটের নিচ থেকে পাঁচটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। আটক আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাতক আসামিদের নাম পরিচয় জানায়।
এদিকে গ্রেফতার নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেছেন, শুক্রবার তার বাবা মরহুম আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। বিকেলে বাড়িতে দোয়া অনুষ্ঠান শেষ করে সন্ধ্যার দিকে তিনি বের হয়ে ষষ্ঠিতলাপাড়ায় বন্ধু শিশিরের বাড়িতে বসে ছিলেন। সে সময় পুলিশ গিয়ে তাদের কোনো কারণ ছাড়াই আটক করে নিয়ে আসে। তার সঙ্গে চারজন ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘কী কারণে আমাদের আটক করা হলো তা জানি না। বিএনপি করার কারণে আটক করতে হবে? বিএনপি কি নিষিদ্ধ দল?’

আরও পড়ুন