রমজান মুমিনের বসন্তকাল

আপডেট: 02:25:31 21/05/2018



img

এম মোহাম্মদ : সোমবার পবিত্র রমজানের চতুর্থ দিন। হিজরি নবম মাস এটি। পৃথিবীর সবখানেই ঋতু গণনায় বসন্তের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই ঋতু প্রত্যেকের জন্য প্রশান্তির প্রতীক। এসময় প্রকৃতি সাজে বৈচিত্র্যময়তায়। এর স্তুতিগাথায় নিজেকে নিবেদন করে সৃজনশীল মানুষেরা। তেমনি রমজান হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল। এটি ইবাদতের মৌসুম। মুমিন বান্দার জন্য পরম স্বস্তির প্রতীক। বান্দা নিজেকে নিবেদন করে আল্লাহ জাল্লা শানুহুর কাছে। আর এই নিবেদনের পুরস্কার হিসেবে সে পেতে চায় একান্ত আরাধ্য জান্নাত বা বেহেশত।
'রমজ' ধাতু থেকে রমজান শব্দের উৎপত্তি। রমজান অর্থ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেওয়া। যে মাসে মানুষের রিপুসমূহ যেমন- কাম, লোভ, মোহ ও ভোগের মানসিকতাকে জ্বালিয়ে ছাই করার ব্যবস্থা রয়েছে, তা-ই রমজান মাস। রমজানকে যারা সেভাবে কাজে লাগাতে পারলো তারা সফল হলো। আর যারা সেভাবে আত্মসংশোধন করতে পারলো না তারা বড়ই দুর্ভাগা। তাদের সিয়াম সাধনা যেন কোনো কাজেই এলো না।
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, “রমজান মাসে যে একটি ভালো কাজ করবে সে যেন একটি ফরজ আদায়ের কাজ করলো। আর যে একটি ফরজ আদায় করলো সে যেন ৭০টি ফরজ আদায় করলো। এ মাস ধৈর্য ও সহানুভূতিশীল হওয়ার মাস।
প্রিয় পাঠক, রমজান নিয়ে বাংলা ব্লগে কিছু তরুণ শ্লেষের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন তাদের বেদনার কথা। তারা বলতে চেয়েছেন, সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে। বলছেন, রোজার মাসে যে মানুষটি রোজা রাখছেন, সেই আবার সব থেকে মিথ্যা কথা বলছেন। ওজনে কম দিচ্ছেন। মজুদদারি করে ফড়কা আয় করছেন। কোনো কোনো তরুণ সারারাত ধরে বিভিন্ন কায়দায় নগ্ন মুভি দেখছেন। জেনা-ব্যভিচার করছেন। এত সব কায়-কারবারের পরও সে রোজাদার! এমন মানুষের মুখোশ উন্মোচন করতে গিয়ে ব্লগে তারা তাদের পরিচিত কিছু উদাহরণ ও নাম সন্নিবেশ করে বিষয়ের সত্যতার প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
আসলে সমাজের রন্ধ্রে যে পচন তা রোধ করা জরুরি। আপন ভালো হলে পরে, জগতও ভালো হবে। এটাই চূড়ান্ত কথা। আপনকে ভালো করতে চাইলে রোজার প্রকৃত শিক্ষায় নিজেকে শামিল করতে হবে। তা না হলে প্রজন্মের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নাজেহাল হতে হবে। তাদের কাছে ধর্ম বা রিলিজিয়ন তিক্ত আফিমের মতো মনে হবে। এখানে এ মাসে মুসলমানদের করণীয় কিছু বিষয় পয়েন্ট আকারে সন্নিবেশ করা হলো :
১. রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা, পবিত্রতা রক্ষার জন্য অন্যকে উৎসাহিত করা
২. ঈমানদারি ও আত্মসমালোচনার সঙ্গে হিসেব করে করে রোজা রাখা
৩. সব ধরনের মিথ্যা, পাপ, দুর্নীতি ও অপকর্ম চিরতরে বর্জন করা
৪. রমজানের শিক্ষা অনুযায়ী নিজের জীবন, পরিবার ও সমাজ গঠনের চেষ্টা করা
৫. কুরআন পড়া, বুঝা এবং কুরআনের শিক্ষা ও দাবি অনুযায়ী পরিবার এবং সমাজ গঠন করা
৬. ধৈর্য ও ত্যাগের গুণ অর্জন করা
৭. গরিব অসহায় মানুষের প্রতি সদয় হয়ে তাদের সাহায্য করা
৮. আল্লাহর নবী (সা.) রমজান মাসকে রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মাস ঘোষণা করেছেন। তাই সবার উচিত রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তি লাভ করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা
৯. অতীতের সব ভুল-ত্রুটির জন্য তাওবা করা। ভবিষ্যতে ওই ধরনের অন্যায়, ইসলাম, সমাজ, দেশ ও মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত না হওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তাওবা ও সিদ্ধান্তের উপর অটল থাকা।