নিয়োগ দুর্নীতি : শিক্ষা কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব

আপডেট: 07:13:23 17/10/2017



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : আশাশুনি উপজেলার ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়টিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন নাহারকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩১ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশসহ রুল জারি করেন।
এই শামসুন নাহার ওয়ান ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ পরীক্ষা কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি ৩৬টি স্কুলের মধ্যে ২৯ স্কুলের দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আদালত। ‘তিন কোটি টাকার দুর্নীতি’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদনটি করেন দুটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও একজন চাকরি প্রার্থী। সুবর্ণভূমিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী সাজ্জাদ-উল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৩৬টি স্কুলের নিয়োগ পরীক্ষার দিনই (৬ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই কারণে নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী হাজির হয়েছিলেন মাত্র একজন করে। এমনকী অনেক স্কুলের চাকরিপ্রার্থী ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির আত্মীয়রা। এসব বিষয় আইনের লংঘন। এটি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়।
তিনি বলেন, 'আদালত শিক্ষা কর্মকর্তাকে তলব ছাড়াও ২৯ স্কুলে দেওয়া নিয়োগ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেছেন। রুলে ৩৬ স্কুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে কেন পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।'
রিটের বিবাদীরা হলেন শিক্ষাসচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনার প্রাথমিক শিক্ষার ডিভিশনাল ডেপুটি ডাইরেক্টর, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আশাশুনি উপজেলার ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে নিয়োগের বিপরীতে প্রার্থীদের কাছ থেকে মাথাপ্রতি ছয় লাখ থেকে আট  লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এই হিসেবে প্রায় তিন কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৬ সেপ্টেম্বর উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনু‌ষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়োগের কথা বলে নির্ধারিত পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে আগাম টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নিয়োগপ্রত্যাশী হাবিবুল্লাহ গাজী  নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনও করেন।

আরও পড়ুন