নড়াইলে অপচিকিৎসায় রোগীমৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: 08:55:44 23/04/2018



img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে ডা. আব্দুল কাদের জসিমের অপচিকিৎসায় মাফিজুর শেখ (৩৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
মাফিজুর কালিয়া উপজেলার আরাজী বাঁশগ্রামের ইসরাফিল শেখের ছেলে। তিনি কিছুদিন যাবত হাত-পায়ে ঠিকমতো শক্তি পাচ্ছিলেন না। তাই তাকে সোমবার বিকেলে নড়াইল সদর হাসপাতালের কাছে ডাক্তার আব্দুল কাদের জসিমের চেম্বারে নিয়ে আসেন স্ত্রী লাকছি বেগম। ডা. জসিম তিন হাজার টাকা দামের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইনজেকশন পুশ করার পর রোগীর মৃত্য হয় বলে জানান তার স্ত্রী লাকছি বেগম।
এদিকে, ময়নাতদন্ত এগিয়ে তড়িঘড়ি লাশ দাফন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
লাকছি বেগম অভিযোগ করেন, চেম্বারে নেওয়া মাত্রই ডা. আব্দুল কাদের জসিম রোগীকে দেখে তিন হাজার টাকা দামের একটি ইনজেকশন ও আট হাজার টাকা খরচের একটি পরীক্ষা করাতে বলেন। ‘এতো টাকা নেই’ জানিয়ে তিনি স্বামীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চান। কিন্তু ডা. জসিম তাদের বলেন, দ্রুতই পরীক্ষা করাতে হবে এবং ইনজেকশন দিতে হবে। তা না হলে রোগীর খুব বিপদ হবে। হাত-পা চির দিনের জন্য অকেজো হয়ে যাবে। এসব কথা বলে মোটা টাকা হাতিয়ে নেন ডা. জসিম। এরপর রোগীকে একটি ইনজেকশন দেন তিনি। ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগী মাফিজুর বার বার পানি পান করতে চাইলেও তাকে তা দেওয়া হয়নি।
‘এমনকি আমাকেও অসুস্থ স্বামীর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য ছটফট করলেও ডাক্তারের কর্মচারী স্বপ্নারানি আমাকে আটকে দেয়। এক সময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে আমার স্বামী,’ কাঁদতে কাঁদতে বলে স্বামীহারা লাকছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আমাকে স্বামীর কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরই মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা ধরনের অপচেষ্টা চালান ডাক্তার আব্দুল কাদের জসিম। তিনি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী অনুগত ব্যক্তিকে ডেকে আনেন। তারা এসে আমার স্বামীসহ আত্মীয়-স্বজনদের নানা প্রলোভন এবং হুমকি দিয়ে এ বিষয়ে নীরব থাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি রোগীর ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যু হয়েছে বলতে বাধ্য করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে লাশসহ আমাদের জোর করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’’
বাড়ি যাওয়ার সময় লাকছি বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার স্বামী হাঁটা-চলা করতে পারতেন। স্থানীয় বনগ্রাম বাজারে চা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তাকে সুস্থ করতে হাসপাতালে এনেছিলাম। অথচ কসাই ডাক্তার তাকে লাশ বানিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো।’
এদিকে, এই ঘটনা শহরে দ্রুতই ছড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ভাংচুর হওয়ার ভয়ে চেম্বারের সামনে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, নিজ কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালের কাছে নড়াইল-যশোর রোডে ‘ট্রমা সেন্টার’ নামে চেম্বার খুলে প্রাইভেট রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকেন ডা. রশিদ। এই ডাক্তার সব সময় সরকারি দলের প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে চলেন।
এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. আছাদ উজ জামান মুন্সি বলেন, ‘ভুল চিকিৎসায় না হার্ট অ্যাটাকে রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ছাড়া বোঝা যাবে না। আর এ বিষয়টি পুলিশের। পুলিশ আমাদের কাছে পাঠালে আমরা পোস্টমর্টেম করবো।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মৃতের স্ত্রী ও স্বজনেরা কেউ মামলা করতে চান না।’

আরও পড়ুন