সিডরের ১১ বছর : আজও শিউরে ওঠেন জেলেরা

আপডেট: 01:50:18 15/11/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : দানব সিডরের প্রলয়ঙ্করি তাণ্ডবের পর স্বজনদের প্রতীক্ষার যেনো শেষ নেই। তাদের চোখের জলও যে আর শুকায় না। সিডরের নির্মম বলি সাতক্ষীরা শহরের কুখরালির জেলেপাড়ার কেনা বৈদ্যের স্ত্রী পদ্মারানি আর তার দুই সন্তান সাগর ও তুফান এখনো অপেক্ষায় থাকেন, কখন ফিরবেন সমুদ্রে যাওয়া তাদের আপন মানুষটি।
২০০৭ সালের এই দিনে সিডরের সেই ভয়াল থাবার পর থেকে এভাবেই কাটছে দিন-মাস-বছর। আর প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা সাতক্ষীরার সেই সব জেলেরা আজও শিউরে ওঠেন সাগরজলে তিনদিন ভাসমান থেকে জীবন রক্ষার স্মৃতি যখন মনে ভেসে ওঠে।
মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনে আটকা পড়া কুখরালির রতন বৈদ্য ও তার ছেলে কেনা বৈদ্য সাগরে আলাদা ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সিডরের আঘাতে রতন বৈদ্য প্রাণে বেঁচে গেলেও চিরদিনের মতো হারিয়ে যান তার ছেলে কেনা বৈদ্য। রতন বৈদ্য ও তার স্ত্রী শান্তিরানি আজও পুত্র শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন। কেনার স্ত্রী পদ্মা তার দুই ছেলেকে বুকে নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় দিন কাটান।
এদিকে সাগরে ভাসমান ড্রামের সঙ্গে নিজেকে রশি দিয়ে বেঁধে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লড়াই করে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন তালার মালোপাড়ার মিন্টু ও উত্তম। সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে জানান, সিডরের দাপটে তার বাবা ও কাকা গৌর হালদার ও অজিত হালদারের মৃত্যুর দৃশ্য তারা দেখেছেন। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পদ্মপুকুরের খোলপেটুয়া নদীতে শিক্ষক বাবা ইব্রাহিমকে বাঁচাতে গিয়ে সলিলসমাধি হয় ছেলে আইয়ুব আলির ।
সাগরজলে মাছ ধরা ছাড়াও বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, দুবলার চর, আলোরকোলসহ নানা স্থানে কর্মরত সাতক্ষীরার ২৩টি প্রাণ সাগরের নীল জল নিভিয়ে দিয়েছিল সিডর। সাতক্ষীরায় সিডরের আঘাত জোরালো না হলেও জেলার বাইরে কর্মরত থাকা অবস্থায় তালার অজিত, গৌর, গোবিন্দ, কুড়িকাহনিয়া ও শ্রীপুরের আমিরুল ও লাভলু, বড়দলের সন্ন্যাসী, জয়নগরের লুৎফর রহমান, রশিদ, লালু হালদার, সাইদুর রহমান, আবদুল, নজিবুল, ফিরোজা, আনারুল, আয়েশা, দাঁতনেখালির আফসার, বড়কুপোটের শামীম হোসেন, খোকন রাজবংশীসহ অনেকেরই জীবন প্রদীপ নিভে যায়। এদের কারো দেহ পাওয়া গেছে, কারো পাওয়া যায়নি।