ব্যাংক চেক নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট: 02:08:10 15/12/2017



img

নড়াইল প্রতিনিধি : জেলার কালিয়ায় হারিয়ে যাওয়া চেক বই হাতে পেয়ে প্রতারণা শুরু করেছেন দুই যুবক।
পাওয়া ব্যাংক চেকে বৃহস্পতিবার দশ লাখ টাকার অংক বসিয়ে তা ডিজঅনারের মাধ্যমে মামলা রুজুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই কাজ করছেন উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের হারুন অর রশীদের ছেলে মিল্টন মোল্যা ও মোত্তাকিন মোল্যা। টাকা না দিলে মামলাসহ ঘরবাড়িছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। তবে ব্যাংকে উপস্থাপিত চেকটি ত্রুটিযুক্ত ছিল বলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেজ ভাই সত্তরোর্ধ্ব মো. ছাব্বু হোসেন ওরফে মনু মোল্যা গত ১২ ডিসেম্বর  দুপুরে সোনালী ব্যাংক চাঁচুড়ী বাজার শাখা থেকে নিজ নামীয় ৩৪০৬৮০৩৭ নম্বর হিসাব থেকে তিন হাজার টাকা উত্তোলনের পর বাড়ি ফেরার  পথে চ.হি.গচ/১০ নম্বর চেক বইটি হারিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে মো. ছাব্বু হোসেন কালিয়া থানায় একটি জিডি করেছেন। পরে ওই চেক মনু মোল্যার দূর সম্পর্কের শ্যালক কৃষ্ণপুর গ্রামের হারুন অর রশীদের ছেলে মিল্টন মোল্যার হাতে পড়ে।  পাওয়া চেক ব্লাঙ্ক থাকায় আত্মীয়তার সূত্র ধরে প্রতারক মিল্টন মোল্যা ও তার ভাই মোত্তাকিন মোল্যা ‘মনু মোল্যার বাড়িতে গিয়ে তার প্রবাসী ছেলে শাকিল ব্যাংকে টাকা পাঠিয়েছে, তাই মনু মোল্যার স্বাক্ষর প্রয়োজন’- এমন কথা বলে কৌশলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর একটি চেকে ওই স্বাক্ষর দেখে হুবহু জাল করে প্রতারকদ্বয় বৃহস্পতিবার সকালে দশ লাখ টাকা অংক বসিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় সাবমিট করেন।
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতারকদের নাম পরিচয় জানার পর ভুক্তভোগী চেকটি ফিরে পেতে প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না হলে চেকটি ডিজঅনার করে ভুক্তভোগী মনু মোল্যার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রামছাড়া করার হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে ছাব্বু হোসেন মনু বলেন, ‘আমার হারিয়ে যাওয়া চেকটি আমারই দুই চাচাতো শ্যালক হাতে পেয়ে আমার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। না দিলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে।’
প্রতারক মোত্তাকিন মোল্যা একটি প্রতারণার মামলার ফেরারি আসামি বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনালী ব্যাংক চাঁচুড়ী বাজার শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ছাব্বু হোসেন মোল্যা নামে এক গ্রাহকের হারিয়ে যাওয়া চেকটি নিয়ে স্থানীয় এক যুবক একাধিক বার ডিজঅনারের জন্য এই শাখায় দাখিল করলে ত্রুটিযুক্ত চেকটি গ্রহণ করা হয়নি।’

আরও পড়ুন