মেয়েকে বিষ খাইয়ে মায়েরও আত্মহত্যা

আপডেট: 08:03:58 22/10/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : প্রতিবন্ধী মেয়েকে বিষ খাইয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পর মা একই বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরার আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মা ও মেয়ের মরদেহ বাড়ির আঙিনায় পড়ে রয়েছে।
আত্মহননকারী মায়ের নাম শান্তিরানি মণ্ডল (৩৫)। তার প্রতিবন্ধী মেয়ে তমালিকা (৮)। শান্তিরানি ওই গ্রামের দিনমজুর উত্তম মণ্ডলের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিবারটি খুবই গরিব। অভাব-অনটনের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য নৈমিত্তিক। এই কারণে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।
তবে উত্তম মণ্ডলের বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তন্দ্রা মণ্ডল জানায়, তার বোন তমালিকা জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী। বিভিন্ন সময়ে সে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। এ নিয়ে অশান্তি চরমে ওঠে।
তন্দ্রা জানায়, তার মা প্রতিবন্ধী মেয়ের আচরণ সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে খাবারের সঙ্গে তমালিকাকে বিষ খাওয়ান। তমালিকা যখন বিষক্রিয়ায় ছটফট করছিল, তখন তার মাও বিষ খেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন। অল্প সময় পরে মা-মেয়ের দেহ নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তারা স্থানীয় ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু তারই আগে মৃত্যু হয় মা-মেয়ের।
বেদনাদায়ক এ ঘটনার সময় উত্তম মণ্ডল বাড়িতে ছিলেন না। ভোরে তিনি মাছের ঘেরে কাজ করতে যান বলে জানিয়েছে তার মেয়ে তন্দ্রা।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লবকুমার নাথ জানান, তিনি এই খবর পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ পৌঁছাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর রহস্য বের করতে আমরা তদন্ত করবো।’
বড়দল ইউপি চেয়ারম্যন আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমিও ঘটনা শুনেছি। তবে প্রকৃত রহস্য কী এখনো জানতে পারিনি।’

আরও পড়ুন