চৌগাছা পূজা উদযাপন পরিষদে ঘোর কোন্দল

আপডেট: 10:53:56 17/10/2017



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ছয় বছর আগে। ইতিমধ্যে কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করতে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তাতেও সাড়া দেননি সংশ্লিষ্টরা।
এই অভিযোগ করেছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অশোককুমার হালদার। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে দালিলিক প্রমাণ ও নেতাদের সঙ্গে কথা বলেও।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি বরাদ্দের অর্থ লোপাট, আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে সভাপতি-সেক্রেটারির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে গণস্বাক্ষর দিয়ে যশোর জেলা কমিটির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন উপজেলা কমিটির নেতারা। এই স্মারকলিপির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, ২০০৯ সালে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সম্পাদক মনোনীত হন যথাক্রমে নিমাই সরকার ও অধ্যক্ষ বলাইচন্দ্র পাল। এরপর থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতা শুরু হয় তাদের। অভিযোগ রয়েছে, গত আট বছর ধরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ সংগঠনটির নেতৃত্ব দেওয়ার সময়ে এই কমিটি কোনো সাধারণ সভা করেনি। ঘরে বসেই রেজুলেশন করে সদস্যদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন তারা।
বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতি বছর দুর্গাপূজায় সরকারি বরাদ্দের একাংশ হজম করে থাকেন তারা। চৌগাছা শহরে সর্বজনীন কালিমন্দির, শীতলামন্দির ও শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দ মন্দিরের নিজস্ব জমিতে ১৫টি দোকান ঘর রয়েছে। বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রতিটি ঘরের ভাড়া দুই হাজার টাকার বেশি। আট বছরে এসব ঘরের আদায় করা ভাড়ার কোনো হিসেব নেই। এসব কারণে বর্তমানে কোনো পূজা আর্চনায় ওই দুই নেতাকে অতিথি করা হয় না।
সংগঠনটির অধিকাংশ নেতার অভিযোগ, দীর্ঘ আট বছরের দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের উন্নয়নের পরিবর্তে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের। এসব অভিযোগে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে লিখিতভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে জেলা নেতাদের কাছে। একই সঙ্গে এই দুজনের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ৫১ সদস্যের মধ্যে বিভিন্ন পদ-পদবিধারী ৪০ জন। অন্য ১১ জনের দুইজন মারা গেছেন।
এদিকে, ৫ অক্টোবর চৌগাছা পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদারের আহ্বানে শহরের শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দ মন্দিরে বর্ধিত সভা করা হয়। সেখানে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি বানচাল করতে সভাপতি ও সম্পাদক চৌগাছা থানায় অভিযোগ করেন যে, সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা হবে। প্রথমে বাধা দিলেও পরে বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় সভা করতে অনুমতি দেয় পুলিশ। সেখানে সভাপতি নিমাই সরকার ও সম্পাদক বলাইচন্দ্র পালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বক্তব্য রাখেন পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
সভায় পৌর এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দ মন্দির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অধীর সরকারকে আহ্বায়ক ও বর্তমান যুগ্ম-সম্পাদক অশোককুমার হালদারকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগ করা হচ্ছে, সভা আহ্বান করায় পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকরচন্দ্র মজুমদারকে মোবাইল ফোনে পরে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় চৌগাছায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক পত্রে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপসকুমার পাল মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও তা না মেনে নিমাই সরকার এবং বলাইচন্দ্র পাল পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিমাই সরকার বলেন, ‘রাজনৈতিক কমিটির মেয়াদও তো উত্তীর্ণ হয়। উপরি মহল কমিটি ভেঙে না দিলে আমাদের করার কী আছে!’

আরও পড়ুন