যশোরের রফিক সানজিদা অনিরুদ্ধ খুলনার আলিফ নিহত

আপডেট: 06:37:46 13/03/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টারখুলনা অফিস : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে যশোর-খুলনার চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে যশোর নূতন উপশহরের একই পরিবারের শিশুসহ তিনজন রয়েছেন।
উপশহর এ ব্লকের ২৪৫ নম্বর বাড়ির মেয়ে সানজিদা হক (৩৮) সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী রফিকুজ্জামান (৪৫) ব্যবসায়ী। একমাত্র ছেলে অনিরুদ্ধকে (৮) নিয়ে থাকতেন রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকায় ৮১ নম্বর বাড়িতে। ছোট্ট এই পরিবারটি নেপাল ভ্রমণে যাচ্ছিল ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে চেপে। কাঠমান্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ডিংয়ের ঠিক আগমুহূর্তে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে সানজিদা, রফিক ও তাদের সন্তান মো. অনিরুদ্ধ জামান মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পরিবারটি।
সানজিদার চাচাতোভাই ফজল মাহমুদ জানান, টেলিভিশনের খবর দেখে তিনি কাঠমান্ডুতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানতে পারেন। এরপর নিহতদের তালিকা দেখে তিনি বোন, দুলাভাই ও ভাগ্নের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি আফসোস করে বলেন, ‘আট বছর বয়সী আমার ভাগ্নেটি যথেষ্ট মেধাবী। ধানমন্ডি বয়েজ হাইস্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো সে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ভ্রমণে গিয়ে এই মাসুম শিশুটিও মারা গেল। দুনিয়ার কিছুই তো সে দেখলো না!’
তিনি জানান, সানজিদার মা বছর দুয়েক আগে মারা গেছেন। বাবা সাবেরুল হক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অসুস্থ। তাকে এখনো এই মর্মান্তিক খবর জানানো হয়নি।
এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবেরুল হকের সন্তানদের মধ্যে সানজিদা সবার বড়। সানজিদার ছোট দুই ভাই রয়েছেন। তারা হলেন শাহরিয়ার সাবির মিথুন ও শাহনেওয়াজ সাবির উইন। দুইজনই ঢাকায় কর্মরত।
অন্যদিকে, খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামের আলিফুজ্জামানও ছিলেন ওই উড়োজাহাজে। দুর্ঘটনায় তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আলিফুজ্জামানের বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামে। তিনি খুলনা জেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। খুলনার এমএম সিটি কলেজ থেকে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।
৩৪ বছর বয়সী আলিফুজ্জামান সকালে যশোর বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে ঢাকায় যান। সেখান থেকে দুপুরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন।
যশোর বিমানবন্দর থেকে নভো এয়ারের উড়োজাহাজ উড্ডয়নের আগে সেলফি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন আলিফ। এই সেলফি তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জীবনপ্রদীপ নিভে গেল এই তরতাজা যুবকের।
খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আরাফাত হোসেন পল্টু জানান, আলিফের বন্ধু ফারুক নেপালে আছেন। তিনি কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করতে আসেন। আলিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ফারুক। তিনি নিজে মৃতদেহ দেখেছেন।
আলিফুজ্জামানের খালাতো দুলাভাই শফিকুল ইসলাম জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে আলিফুজ্জামান ছিলেন মেজ। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা আসাদুজ্জামান। কয়েকদিন আগে ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে এসেছিলেন আলিফ। এখন তিনি নেপাল ভ্রমণে যাচ্ছিলেন।
‘‘ও কয়েক দিন আগে আমাকে বলেছিল, ‘আমিতো কোনো সঙ্গী পেলাম না। দুলাভাই আমার সাথে চলেন।’ আমি বলি, ‘আমার তো ভিসা নেই। আমি এ সময় যেতে পারবো না’,’’ বলছিলেন শফিকুল।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘রোববার রাতেও থানার মোড়ে একসাথে বসে চা খেয়েছি। কত গল্প করেছি। আমি ওকে শরীর ভালো না বলে যেতেও নিষেধ করেছি। ছয় মাস আগে আলিফের বড় ভাই বিয়ে করেছে। ও ঠিকাদারি করে। বন্ধুদেরও নেপাল যেতে রিকোয়েস্ট করেছিল, কিন্তু কেউ যায়নি।’

আরও পড়ুন