‘ভূতে’ মেরেছে, ধর্ষণের পর খুন বলে ধারণা

আপডেট: 02:21:37 22/04/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর সদরের রাজাপুর এলাকায় ফেরদৌসী বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামীর নাম মোজাহারুল ইসলাম। সাতক্ষীরার কলোরোয়া উপজেলার কলাটুপি গ্রামের মতলেব বিশ্বাসের মেয়ে তিনি।
এলাকাবাসীর ধারণা, দুই সন্তানের জননী ফেরদৌসীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে করে বাড়ির পাশের একটি বাগানে ফেলে দেওয়া হয়। বাপের বাড়ির লোকজনেরও দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ লাশ দেখে কিছু অনুমান করতে পারছে না। মরদেহের নাক এবং কানের মধ্যে রক্ত দেখা গেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, তাকে জিন-ভূতে মেরে ফেলে রাখে। তবে ফেরদৌসীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হুমকির মুখে তার ভাই বোনসহ অন্যরা লাশ নিতে পারেনি।
ফেরদৌসীর ভাই আসাদুজ্জামান বলেন, দাম্পত্য জীবনে তাদের সাথী (১৩) ও কমলা (৩) নামে দুটি মেয়ে আছে। বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে তার বোনকে মারপিট করতো তার ভ্যানচালক স্বামী মোজাহারুল। প্রায় সময় টাকা দাবি করতো।
‘শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, বোন মারা গেছে। ফোনে আমাকে জানানো হয়, রাত আটটার দিকে ফেরদৌসীকে জিনে মেরে বাগানে ফেলে রাখে। শনিবার সকালে আমিসহ পরিবারের লোকজন যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে বোনের লাশ দেখতে পাই। সে সময় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফেরদৌসীকে ভূতে মেরেছে বলে জানায়। লাশের নাকে-মুখে রক্ত ছিল।’
প্রতিবেশীরা জানান, রাত আটটার দিকে বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ফেরদৌসী বেগম। অনেক খোঁজাখুজি করে রাত দশটার দিকে তার মরদেহ বাড়ির পাশের বাগানের মধ্যে পাওয়া যায়। এরপর সেখান থেকে উদ্ধার করে মরদেহ বাড়ি আনা হয়। লাশের মুখ, কান এবং নাকের মধ্য দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। গলায় একটি দাগ ছিল, যা আঙুলের ছাপের মতো। তাদের ধারণা, ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানান, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে ওই গ্রামের তিন যুবককে বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছেন অনেকে। এরকিছু সময় পর ফেরদৌসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে স্বামী মোজাহারুল ও তার পরিবার প্রচার করে ফেরদৌসীকে ভূতে মেরে ফেলেছে।
ফেরদৌসীর বাপের বাড়ির লোকদের অভিযোগ, তারা লাশ নিতে গেলেও দেয়নি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেইসঙ্গে স্থানীয় মেম্বারও ভয়ভীতি দেখান। পুলিশের কাছে না যাওয়ার জন্য শাসানো হয়। ফলে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন ফেরদৌসীর ভাই সেলিম রেজা।
এই ঘটনায় ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মিলন সরকার জানিয়েছেন, সংবাদ পেয়ে শুক্রবার রাত দশটার দিকে বাড়ির উঠানে গিয়ে তিনি ফেরদৌসীর মরদেহ দেখতে পান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, লাশ পাশের বাগানের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাতেই মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়, শনিবার ময়নাতদন্ত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মৃত্যুটা রহস্যজনক মনে হয়েছে। লাশের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। শুধু নাকের কাছে রক্তের মতো দেখা গেছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া কিছু নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন