পল্লবী ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত সম্পন্ন

আপডেট: 10:10:38 20/09/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের চৌগাছার পল্লবী ক্লিনিকে প্রসূতির পেটে গজ-ব্যান্ডেজ (মফ) রেখে সেলাই এবং ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।
প্রসূতি তাহমিনার স্বামী আলমগীর হোসেন গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌগাছা আদালত, যশোরে মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র বিবাদী করা হয়েছে পল্লবী ক্লিনিকের পরিচালক মিজানুর রহমানকে।
আদালতের বিচারক বুলবুল আহমেদ অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে চৌগাছা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহিনা খানম লিলি।
তবে চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবহিত নন। আদালতের কোনো কাগজপত্র তিনি এখনো হাতে পাননি।
এদিকে, প্রসূতিকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে যশোরের সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগীর লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রসূতি তাহমিনা খাতুনের স্বামী আলমগীর হোসেন কমিটির কাছে তার ছয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন। এসময় তথ্য প্রমাণ হিসেবে প্রসূতির জরায়ু দিয়ে বের হওয়া মফের (গজ-ব্যান্ডেজ) ছবিও গ্রহণ করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
আলমগীর হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর আলট্রাসনো রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশনসহ কোনো রিপোর্ট সরবরাহ না করায় সেগুলি তারা তদন্ত কমিটির কাছে দিতে পারেননি। তবে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে করা একটি আলট্রাসনো রিপোর্ট এবং সেখানকার প্রেসক্রিপশন জমা দিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রসূতি তাহমিনার স্বামী আলমগীর হোসেন আরো বলেছেন, সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ায় এবং সেই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে গণমাধ্যমে রিপোর্ট হওয়ায় ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। বুধবার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য চৌগাছা হাসপাতালে এলেও তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাদের বলা হয়, ‘তোমরা মিডিয়ার সামনে যা বলেছ, সেগুলো আর বলবে না।’ তা না হলে তোমাদের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার মানহানি মামলা করব। পল্লবী ক্লিনিকের মালিকের পক্ষে একব্যক্তি তাদের এই হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাহমিনার স্বামী আলমগীর হোসেন।
গত ২৪ জুলাই সিজারিয়ান অপারেশন করতে উপজেলার দিঘলসিংহা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের মেয়ে ও মহেশপুরের ভাটপাড়া গ্রামের আলমগীরের স্ত্রী তাহমিনা খাতুনকে (২৫) পল্লবী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ-ব্যান্ডেজ (মফ) রেখে সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও চৌগাছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব বলেন, ‘সিভিল সার্জন স্যারের নির্দেশে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য গ্রহণ করে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে সিভিল সার্জন অফিসে পাঠিয়ে দেবো।’
এসব বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিনা বলেন, ‘পল্লবী ক্লিনিকের প্যাথলজিস্টদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। যতদূর জানি তাদের সর্বক্ষণিক কোনো এমবিবিএস চিকিৎসকও নেই। এ কারণে যশোরের সিভিল সার্জন পরিদর্শনে এসে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে এক মাসের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।’
রেজিস্ট্রেশন মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারিভাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে দেশের সকল ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নের নির্দেশনা রয়েছে।

আরও পড়ুন