‘শুল্ক বৈষম্যের’ প্রতিবাদে যশোরে বিড়িশ্রমিকরা রাস্তায়

আপডেট: 04:27:27 06/11/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বিড়ির ওপর ‘বৈষম্যমূলক শুল্ক’ প্রয়োগের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন যশোরের বিড়িশ্রমিকরা।
আজ সোমবার দুপুরে কয়েক হাজার বিড়িশ্রমিক যশোরের নাভারনে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির সামনে জড়ো হয়ে এই প্রতিবাদ জানান।
তারা বলেন, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির সঙ্গে এ দেশের এক শ্রেণির সুবিধাভোগী-স্বার্থাণ্বেষী ব্যক্তি বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করে সিগারেটকে উৎসাহিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
বিড়িশিল্পের ওপর আরোপিত ‘বৈষম্যমূলক শুল্ক’ প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিড়িশ্রমিক ফেডারেশন এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচিতে যশোরাঞ্চল ছাড়াও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেন।
তারা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ লাখ শ্রমিক বিড়িশিল্পে কর্মরত। সরকারের সাহায্য ছাড়াই এই শিল্প গড়ে উঠেছে। অথচ কয়েক বছর ধরে মহলবিশেষ এই শিল্প ধ্বংস করতে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার অংশ হিসেবে বিড়ির ওপর বৈষম্যমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে; যা বহাল থাকলে বিড়িশিল্প বন্ধ হয়ে যাবে। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবেন। এসব শ্রমিকের পরিবার পথে বসবে।
এ অবস্থায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় কাজ হারাচ্ছেন শ্রমিকরা। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অসংখ্য নারী শ্রমিক ঘরে বসে কাজ করে সংসারে অর্থ যোগান দিতেন। তাদের সেই রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা।
তারা কারখানা ও শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে বিড়ির ওপর তাদের ভাষায় বৈষম্যমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশ থেকে বিড়ির ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার, ন্যায্য মজুরিসহ সুযোগ-সুবিধা প্রদান, বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিগুলোর ট্যাক্স ফাঁকি ও টাকা পাচার বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ, বিড়িশিল্প ও শ্রমিক রক্ষায় ট্যাক্স নির্ধারণে সংসদ সদস্য, মালিক-শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙালী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারিক হোসেন, বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন পাবনার সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন, সংগঠনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমিটির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন