ফড়িংয়ের আক্রমণে বিবর্ণ লোহাগড়ার ধানক্ষেত

আপডেট: 03:32:18 18/10/2017



img
img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : গাছফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণে লোহাগড়ায় বিবর্ণ হয়ে গেছে ধানের গাছ। এর ফলে ধান উৎপাদন অনেক কমবে বলে চাষিদের আশঙ্কা। যদিও কৃষি বিভাগ তা মনে করে না।
হঠাৎ করে ক্ষেতে পোকার আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাজারে মেলা ওষুধ এই পোকা দমন করতে পারছে না। আবার হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় কীটনাশকের সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পোকা দমনে আলোক ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। তবে চাষিদের বেশির ভাগই আলোক ফাঁদ সম্বন্ধে অজ্ঞ।
কৃষকদের আশংকা, পোকা দমন করতে না পারলে রোপা বোরো ও আমন উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লোহাগড়া উপজেলায় রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় সাত হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চাষ হয়েছে নয় হাজার ৭৮০ হেক্টরে।
গত ১০ অক্টোবর নাগাদ হঠাৎ করে ধানের জমিতে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণ বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ধানসমৃদ্ধ কালনা, চরকালনা, বাঁকা, সিংগা, পাচুড়িয়া, মোচড়া, শালবরাত, জয়পুর, নারানদিয়া, মানিকগঞ্জ, রামকান্তপুর, চরশালনগর, মিঠাপুর, লাহুড়িয়া, ইতনা, কোলা-দিঘলিয়াসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে যেখানে থাকবে সবুজের সমারোহ, সেখানে এখন ধানগাছের বিবর্ণ হয়ে পাতা। নানা ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও চাষিরা ফড়িং মারতে পারছেন না। পোকা এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকরা এই ফড়িংয়ের নাম দিয়েছেন ‘কারেন্ট পোকা’।
ধান ক্ষেতে পোকা দমনের জন্য অনেক কৃষক কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ-কবজের আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে এতে কারো কোনো উপকার হয়েছে বলে শোনা যায়নি।
উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের পঁচাশিপাড়ার কৃষক মোজাফফর হোসেন, ওসমান শেখ ও শাহাদৎ শেখ জানান, গত তিন-চার দিন ধরে এই এলাকার ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণে ধান ক্ষেত বাদামি রঙ ধারণ করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষেতের পোকা দমনে যে কীটনাশক ব্যবহার করতে বলছেন, তা চাহিদার তুলনায় বাজারে কম পাওয়া যাচ্ছে।
জয়পুর গ্রামের কৃষক জামাল ফকির ও পরেশ মল্লিক, সিংগার হুমায়ুন কবির, ইদ্রিস শেখ, চরকালনার মুন মীর, লাবলু মীর, মোচড়ার কামাল মোল্যা, পাঁচুড়িয়ার সোহেল লস্কর জানান, বাদামি গাছফড়িং (বিপিএইচ) বা কারেন্ট পোকা রোপা বোরো ও আমন ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে। ধান গাছে কাইচ থোড় আসার পর পোকার আক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। পোকার ডিম থেকে বেরিয়ে আসা বাদামি ফড়িংয়ের বাচ্চা ও পূর্ণ বয়স্ক উভয় পোকা দলবদ্ধভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস খেয়ে ফেলছে। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। পোকার আক্রমণে ধান গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে বাদামি রঙ ধারণ করছে।
লোহাগড়া বাজারের রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবসায়ী নাজমুল জানান, প্রতিদিনই শত শত কৃষক কারেন্ট পোকা দমনের জন্য কীটনাশক কিনতে আসছেন। কিন্তু বাজারে কীটনাশকের সরবরাহ কম। ফলে কীটনাশক না পেয়ে অনেক কৃষকই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজলো কৃষি র্কমর্কতা সমরেন বিশ্বাস জানান, এই পোকার নাম বাদামি গাছফড়িং (বিপিএইচ)। স্থানীয়ভাবে এই পোকাকে কৃষকরা ‘কারেন্ট পোকা’ বলছেন। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এরই মধ্যে এ সম্পর্কিত প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এই পোকা দমনে ধানক্ষেতে আলোক ফাঁদ তৈরির জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পোকা দমনে তৎপর রয়েছেন। তবে এ পোকার আক্রমণে ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে মনে করছেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন