হেলেদুলে যান চলে নড়াইল-ফুলতলা-খুলনা সড়কে

আপডেট: 07:35:22 19/10/2018



img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : স্থানে স্থানে পিচ-খোয়া উঠে গেছে। ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দক। সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে পানি। এর ওপর দিয়ে হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে গাড়ি। এ অবস্থা নড়াইল সদর উপজেলার নড়াইল-ফুলতলা সড়কের।
এই সড়কে নিত্যদিন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিচ-খোয়া উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে নাকাল অবস্থা হয়। এর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এ সড়কের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-গোবরা-ফুলতলা সড়কটি ২৮ কিলোমিটার। এর ২৬ কিলোমিটার নড়াইল সওজের অধীনে। বাকি দুই কিলোমিটার অংশ খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার মধ্যে। এই দুই কিলোমিটার খুলনা সওজের অধীনে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এই সড়ক দিয়ে নড়াইল, যশোর ও খুলনা জেলার হাজার হাজার পথচারী প্রতিদিন দৈনন্দিন কাজে চলাচল করেন। এই সড়ক দিয়ে তিন জেলার পাঁচ উপজেলার অন্তত এক লাখ মানুষের চলাচল করতে হয় প্রতিদিন। এই সড়কের দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়া ও খুলনার ফুলতলা বাজার এবং উত্তর প্রান্তে রয়েছে নড়াইল জেলার সবচে’ বড় বাণিজ্যকেন্দ্র রূপগঞ্জ বাজার। এই তিন ব্যবসাকেন্দ্রে কয়েক শত ব্যবসায়ী প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়া করেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। অপচয় হচ্ছে সময়।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, কার, পিকআপভ্যান, ইজিবাইক ও অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সড়কের নড়াইল-গোবরা সাত কিলোমিটার অংশ ব্যবহার করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়া যায়। এতে নড়াইল-নওয়াপাড়া যাতায়াতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা কমে যায়।
এদিকে, নড়াইল-শেখেরহাট সড়কটি দিয়ে নড়াইল-ফুলতলা ও খুলনা যাতায়াতে প্রায় ২০ কিলোমিটার সাশ্রয় হয়। এ সড়কের আশপাশে গোবরা মহিলা কলেজ, গোবরা মিত্র মহাবিদ্যালয়, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ, পার্বতী বিদ্যাপীঠ, প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সিঙ্গা-শোলপুর কেপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক ব্যবহার করে। গোবরা, মির্জাপুর, রুখালী ও চাকই এই এলাকার বড় বাজার। এসব বাজারে পণ্য পরিবহনে মালবোঝাই অনেক ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এ সড়কের ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার সড়কে পিচ ও খোয়া উঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যানবাহন চলছে হেলেদুলে, ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন চালাতে হয় ধীর গতিতে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে গোবরা বাসস্ট্যান্ডের একজন সময় নিয়ন্ত্রক (স্টার্টার) বলেন, নড়াইল থেকে গোবরা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়কে বাস যেতে দশ মিনিট সময় লাগার কথা। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগছে। কখনো কখনো বাস, মালবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান গর্তে পড়ে গেলে দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না।
অটোরিকশাচালক কামরুল শেখ বলেন, ছোট যানবাহন প্রায়ই উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। অন্তঃস্বত্ত্বা ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ দেখে কান্না আসে।
কাভার্ডভ্যান চালক আমীর হোসেন বলেন, ‘এ এলাকার বাজারগুলোতে পণ্য দিতে আসি। সড়কের অধিকাংশ জায়গায় ছোট-বড় গর্ত। গাড়ি চলে হেলেদুলে। খানাখন্দকে চাকা পড়লে গাড়ি তোলা দুষ্কর হয়ে যায়। আবার উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। নাকাল অবস্থা।’
নড়াইল সড়ক ও জনপথ (সওজের) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, সড়কটির কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। সড়কের কাজ শেষ হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে। নড়াইল থেকে খুলনা চলাচলকারী পথযাত্রীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

আরও পড়ুন