প্রবাসীর স্ত্রীর মুখে জোর করে বিষ!

আপডেট: 09:46:29 19/09/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : আছিয়া খাতুন (২২) নামে এক তরুণী গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে। তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আছিয়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ধোপাদী গ্রামের জহির বিশ্বাসের স্ত্রী এবং একই উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য সালাউদ্দিনের মেয়ে। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।
বুধবার বিকেল তিনটার দিকে চৌগাছা হাসপাতালে আছিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শাশুড়ি পারুল বেগম ও দেবর মিলন জোর করে তার মুখে বিষ দিয়েছে। পরে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে ওয়াশও করিয়েছে তারাই।
আছিয়ার বাবা সালাউদ্দিন বলেন, ‘ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য হিসেবে আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত। পাঁচ বছর আগে আমার মেয়ের বিয়ে হয় একই উপজেলার ধোপাদী গ্রামের হারান বিশ্বাসের ছেলে জহির বিশ্বাসের সাথে। আমার মেয়ের নিহান নামে চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। স্বামী দেশে না থাকায় আছিয়ার শাশুড়ি, দেবর, ননদ ও নদদের স্বামী প্রায়ই তাকে নানাভাবে নির্যাতন করত।’
‘মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরে মেয়েকে আনতে যাই ধোপাদী গ্রামে। সেখানে গিয়ে মেয়েকে না পেলেও অনেক মহিলাদের জটলা দেখতে পাই। তাদের জিজ্ঞাসা করে কিছু না জানতে পেরে একজনের ইশারায় পাশের ধোপাদী বাজারে গিয়ে দেখি এক গ্রাম্য চিকিৎসকের দোকানে আমার মেয়েকে ওয়াশ করা হচ্ছে। বেলা ১২টার দিকে একটি মাইক্রোর ব্যবস্থা করে তাকে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানকার চিকিৎসক তাকে ওয়াশ করে ভর্তি রেখেছেন। এখানে এসেও মেয়ের শ্বশুর পক্ষের লোকজন গোলযোগ করছিল।’
তিনি বলেন, ‘চৌগাছা থানা পুলিশ এসেছিল। ঘটনাস্থল অন্য থানায় হওয়ায় মেয়ে একটু সুস্থ হলে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করব।’
চৌগাছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব বলেন, ‘মঙ্গলবার আছিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা খুব বেশি ভালো না। শুনেছি রোগীর স্বজনদের দুই পক্ষ হাসপাতালেও গোলযোগ করেছে।’
তবে এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আছিয়ার দেবরের সেল ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও প্রতিবারই তিনি কেটে দেন।
চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক আকিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়েছিলাম। যেহেতু ঘটনাস্থল কালীগঞ্জ থানায়। এজন্য তাদের কালীগঞ্জ থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন