টর্নেডোয় লণ্ডভণ্ড বাঘারপাড়ার কয়েক গ্রাম

আপডেট: 02:17:33 21/09/2017



img
img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : বুধবার বিকেলে ৩০ সেকেন্ডের টর্নেডোয় বাঘারপাড়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে অসংখ্য বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে যায়। ফলে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে কয়েকটি পরিবার।
সরেজমিন দেখা গেছে উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের পাকেরালী, দক্ষিণ শ্রীরামপুর, রামনগর, চাড়াভিটা, দোহাকোলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া, ছাইবাড়িয়া, সুকদেবনগর, ধলগ্রাম ইউনিয়নের দশপাখিয়া ও আগড়া গ্রামের অসংখ্য আধাপাকা ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী এ ঝড়ে। এ সময় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে যায়।
বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বৃদ্ধ আবু তালেব বলেন, ‘মনে হলো গাছগাছালির ওপর দিয়ে একটা প্লেন বা ওই রকম কিছু একটা গেল। সামনে ভেসে উঠলো আগুনের দলা, সাথে ধোঁয়া। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব তছনছ হয়ে গেল। ধোঁয়ায় গোটা এলাকা যেন অন্ধকারে পরিণত হলো।’
একই ইউনিয়নের পাকেরালী গ্রামের বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত কামরুজ্জামান লিটন জানান, ৩০ সেকেন্ডের ঝড়ে তার নিজের ঘরসহ আশপাশের গাছপালা যেন আকাশে কাগজের মতো উড়তে দেখা গেল। এ গ্রামের শরিফ খান, সোহেল খান, তোফাজ্জেল, ইনামুল সদার, মোতালেব হোসেন, খোকন, জাহাঙ্গীর আলম, হারুন মণ্ডল, নাসির হোসেন, আতিয়ার, আরিফ হোসেনসহ আরো অনেকের আধাপাকা বাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে আকস্মিক এ ঝড়ে। ঘরবাড়ি, গাছপালার পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছে ইটের ভাটাও।
দোহাকুলার শাহিন ব্রিকসের মালিক শাহিন হোসেন জানান, আকস্মিক এ ঝড়ে তার ভাটার তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। উড়িয়ে নিয়ে গেছে লেবারদের বসবাসের ২১টি টিনের ঘর ও ৪০ ফুটের কয়লার ঘরটিও।
দোহাকুলা ইউনয়নের চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদার তার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
সাংবাদিকদের তিনি জানান, দোহাকুলার পূর্বপাড়ার তরিকুল, আফসার, আসাদ, ওয়াজেদসহ কয়েকজনের আধাপাকা ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে বুধবার বিকেলের আকস্মিক ঝড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন