ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা : খুলনায় আ. লীগ নেত্রী রিমান্ডে

আপডেট: 02:48:59 17/10/2017



img

খুলনা অফিস : খুলনায় স্কুলছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনীর (১২) আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী মাফিয়া কবিরকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার খুলনার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম সুমি আহমেদের আদালতে এ রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
‘বখাটেদের উৎপাতে’ চাঁদনী আত্মহত্যা করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
এর আগে রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লবণচরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী মাফিয়া কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
আদালতে আসামি পক্ষে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান পপলুসহ এক ডজন আইনজীবী। বাদী পক্ষে ছিলেন আদালতের সিএসআই জোসনা বেগম।
আসামি মাফিয়া কবির বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি দুই বার ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। স্থানীয় হরিণটানা রোডের বাসিন্দা মাফিয়া কবিরের স্বামী কবির হোসেন বিদেশে থাকেন। তার বিরুদ্ধে এলাকার বখাটে ও মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইউসুফ আলী বলেন, ‘মাফিয়া কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
বখাটে শুভসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বখাটে শামীম হাওলাদার শুভ ও তার সহযোগীদের টিজিংয়ের শিকার হয়ে মেধাবী ছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনী ১৩ অক্টোবর রাতে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সে খুলনা সরকারি করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো। চাঁদনী নগরীর লবণচরা থানার হরিণটানা প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট রবিউল ইসলামের মেয়ে।
স্কুলছাত্রী চাঁদনীর আত্মহননের প্ররোচনার অভিযোগে ১৪ অক্টোবর তার বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে লবণচরা থানায় মামলা করেন। মামলায় বখাটে শামীম হাওলাদার শুভ, তার বাবা শাহ আলম হাওলাদার, মা  জাকিয়া বেগম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী মাফিয়া কবির ও বন্ধু হাসিবসহ অজ্ঞাত আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়। ওই দিনই পুলিশ শুভর সহযোগী মাফিয়া কবিরকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।

আরও পড়ুন