বাল্যবিয়ে ঠেকানো যাচ্ছে না সাতক্ষীরায়

আপডেট: 01:43:07 11/03/2018



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরাকে ‘বাল্যবিবাহমুক্ত জেলা’ ঘোষণা করা হলেও কোনো সামাজিক এই ব্যাধিমুক্ত হতে পারেনি জেলাটি। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে বাল্যবিয়ের মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। গত দুই মাসে ‘জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি’র সহায়তায় প্রশাসন ২৯টি বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে, বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হলেও কিছুদিন পর কোনো না কোনোভাবে লুকিয়ে ওইসব মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাকিবুর রহমান জানান, সাধ্যমতো চেষ্টার পরও কোনোক্রমেই অপরিণত বয়সী মেয়েদের বিয়ে থামানো যাচ্ছে না। তারপরও গত দুই মাসে ২৯টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৫টি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪টি বিয়ে বন্ধ করা হয়।
তিনি জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ অত্যন্ত কঠিন কাজ। অনেক সময় সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুকূলে থাকে না। তারপর আবার যানবাহন ও ফান্ড না থাকা, নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকা, প্রশাসনিক সাহায্য পেতে দীর্ঘসূত্রতা, রাত-বিরাতে নিরাপত্তার সমস্যাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির নির্বাহী প্রধান ও জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহনওয়াজ পারভীন মিলি বলেন, ‘দেখা যায়, আমরা বন্ধ করছি, পরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে অভিভাবকরা। এছাড়া এক শ্রেণির অসাধু আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও বিবাহ রেজিস্ট্রার টাকার বিনিময়ে বয়স বাড়িয়ে বাল্যবিয়ে ত্বরান্বিত করছে।’
এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ জানান, বাল্যবিয়ের কোনো ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। জেলা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ মনিটরিং কমিটি এটা সর্বক্ষণিক দেখা শোনা করে।

আরও পড়ুন