সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম দুর্নীতি

আপডেট: 03:36:51 23/05/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ ও দুর্নীতি চরম পর্যায় পৌঁছেছে। চুক্তিতে ও দালাল ধরে গেলে কোনো ঝামেলা হয় না। আবার যারা সাধারণভাবে পাসপোর্ট করতে যান তাদের ঝামেলার শেষ থাকে না।
এক শ্রেণির দালাল পুরো পাসপোর্ট অফিস জিম্মি করে রেখেছে। তাদের মাধ্যমে না এলে সাধারণ মানুষ পাসপোর্ট করতে পারেন না।
পাসপোর্ট অফিসে সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে মো. আবু সাঈদ যোগদানের পর থেকে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরপর দুইবার বদলির আদেশ হলেও তিনি তদবির করে তা রদ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে অফিস-সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
পাসপোর্ট করতে আসা এক ব্যাক্তি জানান, কাগজপত্র সব কিছু ঠিকঠাক করে গেলে প্রথমে হেল্প ডেস্ক থেকে বলবে, 'আপনার ফরমে ভুল আছে। কোথা থেকে ফরম পুরণ করেছে?' পরে তারা একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে বলবে ওখান থেকে করে নিয়ে আসেন। সেখানে ফরম পুরণ করতে গেলে তিন থেকে চারশ টাকা গুনতে হয়। এরপর সেখানে গেলে দালাল বা অফিসের পিয়ন দেখিয়ে বলবে, 'উনাদের সাথে কথা বলেন।' তাদের সাথে কথা বললে পাসপোর্ট প্রতি এক হাজার ৫০ টাকা খরচ হিসেবে নেওয়া হয়। যারা নগদ টাকা দিতে পারবে তাদের পাসপোর্টের সব কাজ পাঁচ মিনিটের মধ্যে হয়ে যায়। আর যারা টাকা দিতে না পারবে তাদেরকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। এই বক্তব্য দেওয়া পাসপোর্টপ্রার্থী নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
শহরের মুনজিতপুর গ্রামের আমিনুর রহমান জানান, তিনি তার চাচির জন্য গত সোমবার সকালে পাসপোর্ট করতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হন।
তিনি বলেন, পাসপোর্ট অফিসের এডির নিয়োগ করা দালালের হাতে কাগজপত্র দিলে তাড়াতাড়ি কাজ হয়। আর যারা দালালের মাধ্যমে আসেন না, তাদেরকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। যারা এডির দালালের মাধ্যমে আসেন তাদের কাজ সারতে সর্বোচ্চ সময় লাগে পাঁচ মিনিট।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে টাকা দিলে সব হয়। এখানে এডির কথামতো সব হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল দশটার ফাইল পেয়েছেন বিকাল তিনটার সময়।
আশাশুনি উপজেলার আতিকুর রহমান জানান, তিনি আড়াই মাস আগে পাসপোর্ট করেছেন। তিনি এখনও পাসপোর্ট হাতে পাননি। তিনি দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করেছিলেন যাতে পাসপোর্টটি দ্রুত পান। এখন এডির নিয়োগকৃত দালালরা বলছে পাসপোর্ট দ্রুত নিতে গেলে আরও এক হাজার টাকা বাড়তি দিতে হবে। এই টাকাটা এডি স্যারের দিলে স্যার ঢাকায় দ্রুত কথা বলে পাসপোর্ট এনে দেওয়ার ব্যাবস্থা করবেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, 'আমরা পাসপোর্ট অফিস মনিটরিং করছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
এব্যাপারে সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ জানান, তার বিরুদ্ধে ওঠানো অভিযোগ ঠিক না। দালালরা টাকা নিলে তার কিছুই করার থাকে না বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন