মণিরামপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি

আপডেট: 08:38:14 27/02/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : বিকলের অজুহাতে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী বহনকারী একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে তালাবন্দি করে রাখা হয়েছে। গত তিন মাস ধরে কোনো রোগী অ্যাম্বুলেন্সটির সেবা পাননি।
দীর্ঘ সময় ধরে এটি তালাবন্দি করে রাখা হলেও সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগও নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে প্রায় তিনগুণ ভাড়া দিয়ে বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এতে করে গরীব ও দুস্থ রুগীর স্বজনরা পড়ছেন বিপাকে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে গাড়িটি গ্যারেজে তালাবন্দি অবস্থায় পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংস্কার নয়,নতুন অ্যাম্বুলেন্সের আবেদন করা হয়েছে।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে গঠিত দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা মণিরামপুর। সবশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলাটির জনসংখ্যা চার লাখ ৪৫ হাজার ২৪। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর সেবায় বহু বছর ধরে নিয়োজিত রয়েছে একটি মাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। অনেক আগ থেকেই হাসপাতালের এই অ্যাম্বুলেন্সটির সেবা প্রাপ্তি দিয়ে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ। দিনের বেলায় সেবা জুটলেও গভীর রাতে সেবা মিলতো না বললেই চলে। রাতে অ্যাম্বুলেন্সের চালককে ফোন করে পাওয়া যেত না। যদিও ফোন ধরতেন ‘অ্যাম্বুলেন্সের সমস্যা’ বা ‘শরীর খারাপ’ অজুহাতে তিনি এড়িয়ে যেতেন।
রাতের সেবা না মিললেও দিনে যেটুকু মিলতো সেটাও বন্ধ রয়েছে গত তিন মাস ধরে। অ্যাম্বুলেন্সটি চলাচলের অনুপযোগী অজুহাতে চালক তিন মাস ধরে তা গ্যারেজে তালাবন্দি করে রেখেছেন। যদিও চালকের দাবি, গত একমাস ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে তালাবন্দি।
অভিযোগ রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সের চালক ইকলাসসহ হাসপাতালের একটি চক্র অ্যাম্বুলেন্স বিকলের অজুহাত তুলে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জুটিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বাড়তি টাকা। ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে যোগসাজসে রোগীপ্রতি তারা নির্দিষ্ট হারে অর্থ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। ফলে তারা চাইছেন না, যে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত হোক। এদিকে, ড্রাইভার ইকলাস ঘরে শুয়ে বসেই গুনছেন মাসিক বেতন।
উপজেলার চিনাটোলা এলাকার ফারুক হোসেন বলেন, ‘মাসখানেক আগে রাত ১২টার দিকে আমার চাচা ইউসুফ আলী হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে মণিরামপুর হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। তখন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালককে কল করা হলে গাড়ি নষ্ট, তিনি যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে এক হাজার ২০০ টাকায় বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ডেকে চাচাকে যশোরে নেওয়া হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মাত্র ৪৪০ টাকা।’
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ইকলাস আলী বলেন, ‘মণিরামপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি ২০০৬ সালে। বেশ পুরনো হওয়ায় কয়েক মাস ধরে তা বিকল হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে এটি মেরামত করে চালানো হলেও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। গাড়ির ইনজিন, রঙের সমস্যা রয়েছে। গতি নেই বললেই চলে।’
তিনি বলেন, ‘গাড়ি খারাপ হওয়ায় মাসখানেক আগে দেবীদাসপুর এলাকার এক শিশু রোগীকে যশোরে নিয়ে যাচ্ছিলাম। পথে রোগীর স্বজনরা অনেক খারাপ কথা বলেছেন। সেই থেকে আমি গাড়িটি গ্যারেজে ফেলে রেখেছি।’
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রতি লিটার পেট্রোলে কমপক্ষে ছয় কিলোমিটার পথ চলার কথা। কিন্তু এখানকার অ্যাম্বুলেন্সটি প্রতি লিটারে যাচ্ছে চার কিমি। ফলে অতিরিক্ত তেল খরচ বহন করা সম্ভব না। আর পুরনো হওয়ায় এই গাড়িটি ব্যবহারের উপযোগী নয়।’
তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে তিন বার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অবেদন করা হয়েছে। এমপি মহোদয়কেও জানানো হয়েছে। তিনি চেষ্টা করছেন। গেল সপ্তাহে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে।’
দ্রুতই নতুন অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে বলে আশা এই কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন