মণিরামপুরে বড় ভাইকে গাছে বেঁধে নির্যাতন!

আপডেট: 02:14:18 16/03/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে রবিউল ইসলাম (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড়ে এঘটনা ঘটে।
রবিউল মোহনপুর কারিগরপাড়ার মৃত আলী মোহম্মদ বিশ্বাসের বড় ছেলে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত রিবোধে তার ছোট দুই ভাই কবির ও শিমুল তাকে দড়ি দিয়ে গাছে বেঁধে মারপিট করে সারা গায়ে মানুষের মল মাখিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে রবিউলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
রবিউল বলেন, ‘সকালে আমি বিজয়রামপুর বেলতলা মোড়ে একটি দোকানে বসে ছিলাম। আমার দুই ভাই কবির ও শিমুল সেখানে গিয়ে আমাকে ধরে দড়ি দিয়ে হাত-পা বাঁধে। তারপর ভ্যানে তুলে আমাকে মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়ে এনে আমার সারা গায়ে মানুষের গু লাগিয়ে দেয়। পরে আমাকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে।’
রবিউল অভিযোগ করেন, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তার ছোট চার ভাই বাবার সব সম্পত্তি জোর করে দখল করে খাচ্ছেন। মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়ে তাদের দুটি দোকান আছে। তিনি সেখান থেকে একটি দোকান দখলে নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে না দিয়ে জোর করে তার দুই ভাই কবির ও শিমুল সেখানে ব্যবসা করছেন। এই নিয়ে রবিউল বিভিন্ন জায়গায় বিচার দিয়ে কোনো ফল পাননি।
রবিউল বলেন, ‘বিচার না পাওয়ায় বুধবার রাত ১২টার দিকে আমি বাড়ির টয়লেট থেকে ময়লা এনে ওই দুই দোকানের সামনে ফেলে রাখি। সকালে ওরা আমাকে ধরে এনে হাত-পা বেঁধে ওই ময়লার ওপরে ফেলে মারপিট করে।’
স্থানীয়রা বলছেন, রবিউলের বুদ্ধি একটু কম হওয়ায় তাকে ঠকিয়ে আর চার ভাই সব সম্পত্তি দখল করে খাচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে ওরা রবিউলকে ধরে মারপিট করে বেঁধে রাখেন।
জানতে চাইলে কবির তার বড় ভাইকে বেঁধে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে বেঁধে রাখার ছবি দেখানো হলে তিনি বলেন, ‘দোকানের সামনে বিষ্ঠা ফেলায় এলাকার লোকজন তাকে (রবিউল) ধরে বেঁধে রেখেছে।’
মণিরামপুর থানার এসআই তমনকুমার বলেন, ‘সকালে হাসপাতালের সামনে মুখ বাঁধা অবস্থায় একটা বস্তা পড়ে থাকতে দেখে লোকজনের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখে, বস্তার ভেতরে মানুষের মল। পুলিশ কাউকে বেঁধে রাখতে দেখেনি।’

আরও পড়ুন