মণিরামপুরে খুন, প্রবাসীর স্ত্রী আটক

আপডেট: 03:14:17 15/12/2017



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে আশরাফুল হোসেন (৪০) নামে এক ভ্যানচালককে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মুজগুন্নি এলাকায় এঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার সকালে স্থানীয় আরশাদ ফকির নামে একব্যক্তির নারকেলবাগান থেকে আশরাফুলের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে খালেদা (৩৮) নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। খালেদা ওই এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। তার চার বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
আশরাফুলের লাশ যে বাগান থেকে উদ্ধার হয়েছে, সেটির অবস্থান তার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। স্থানীয়দের ধারণা, আশরাফুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ওই বাগানে ফেলে রাখা হয়। সকালে স্থানীয়রা বাগানে সুপারি কুড়াতে গিয়ে আশরাফুলের লাশ দেখতে পান।
নিহত আশরাফুল দক্ষিণ মুজগুন্নি পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। ইনজিনভ্যান চালিয়ে সংসার চলতো তার।
স্ত্রী হামিদা বলেন, ''আমার স্বামীর সাথে প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী খালেদার তিন বছর ধরে পরকীয়া। আমি তাকে বহুবার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। এমনকি তাকে বলেছি, 'তুমি ওই মহিলাকে বিয়ে করো। আমাকে তালাক দিয়ে হলেও তাকে ঘরে তোলো। ওই মহিলার সাথে সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় এর আগে শালিসও হয়েছিল।''
হামিদা বলেন, 'বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি ভ্যান রেখে আমার স্বামী বেরিয়ে যায়। আমি তাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি আসতে বললে সে রাত ১১টার মধ্যে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে আর ফেরেনি। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।' হামিদার দাবি তার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। সেই খুনে খালেদা জড়িত।
স্থানীয়রা বলছেন, খালেদার চারিত্রিক সমস্যা রয়েছে। আশরাফুল বাদেও পাশের গ্রামের বাবুল নামে এক ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে। রাতে বাবুলকে ওই নারীর বাড়ির আশপাশে ঘুরতে দেখা গেছে। খালেদা তার প্রেমিক বাবুলের যোগসাজশে আশরাফুলকে হত্যা করেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এদিকে, আশরাফুলের ভাইপো মুন্না বলেন, ''বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আমার ফোনে খালেদা ফোন করেন। তিনি ফোনে আমাকে বলেছেন, 'তোমার চাচার অবস্থা ভালো না। এখনই আসো। কিন্তু রাত অনেক হওয়ায় আমি যাইনি। বিষয়টি মেম্বর ফারুককে জানিয়েছিলাম।''
জানতে চাইলে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, 'আমাকে ওরা রাতে বিষয়টি জানিয়েছিল। আমার শরীর খারাপ ছিল বলে যেতে পারিনি।'
ফারুক মেম্বার দাবি করেন, পরকীয়ার কারণে আশরাফুল খুন হয়েছেন। এই কারণে খালেদা নামের ওই নারীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার এসআই তাপসকুমার রায় বলেন, 'লাশের গলায় দাগ রয়েছে। তবে এটা খুন না আত্মহত্যা তা বোঝা যাচ্ছে না। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে।' খালেদা নামের এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে বলে জানান এসআই তাপস।
এই বিষয়ে জানতে থানার ওসি মোকাররম হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন