মণিরামপুরে ইউপি সদস্যকে গণপিটুনি, মামলা

আপডেট: 07:56:50 19/05/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের চালুয়াহাটি ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জিএম মশিউর রহমানকে মারপিটের পর ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মেম্বার থানায় মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, স্থানীয় আব্দুল কুদ্দুস, সোহেল, মোস্তফা, লুৎফর রহমান, শামসুর রহমান, আরফিন, সাকি, প্রান্ত এবং মাহাবুর।
এরআগে ফসলের ক্ষেত নষ্ট করে মাটি কাটা মেশিন পার করার অভিযোগে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা মেম্বারকে মারপিট করেন। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ মশিউরকে উদ্ধার করে।
মশিউর রহমান মোবারকপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। মেম্বারের ভাষ্য, ‘ফসল নষ্ট মূল বিষয় না, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।’
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় নিজের ঘের কাটার জন্য মাটি কাটার মেশিন আনেন মেম্বার মশিউর। মাটি কাটা শেষ হলে বৃহস্পতিবার রাতে ওই মেশিন অন্যের ঘেরে নেওয়া হয়। মেশিন নেওয়ার সময় কয়েকজনের জমির ফসল নষ্ট হয়। এই নিয়ে শুক্রবার সকালে জমির মালিকরা মেম্বারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মেম্বারকে পিটুনি দিয়ে মফেজ নামের এক ব্যক্তির ঘরে আটকে রাখেন। তারা মেম্বরের গায়ের গেনজি ছিড়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে দুপুরে দিকে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের টুআইসি এএসআই আলতাব হোসেন মেম্বারকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানায়, শুধু মাটি কাটা মেশিন নেওয়ার ঘটনা নয়; মেম্বার গবির লোকজন বাদ রেখে এলাকার সচ্ছল লোকজনের নাম দিয়ে কর্মসূচির কাজ করাচ্ছেন। কর্মসূচিতে ৪০ জন হাজির থাকার কথা থাকলেও ১৫-১৬ জন নিয়মিত কাজ করেন। বাকিদের উপস্থিত দেখিয়ে মেম্বার টাকা তুলে নেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে মেম্বার ক্ষিপ্ত হন। তখন তাকে মারপিট করে ঘরে আটকে রাখা হয়।
ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি মাটি কাটা মেশিন মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছি। পরে খোকা নামের একব্যক্তি তার ঘের কাটার জন্য মানুষের ফসলের জমির ওপর দিয়ে রাতে সেই মেশিন পার করে। এই জন্য শুক্রবার সকালে আমি খোকাকে বকাঝকা করে আমার ঘেরে চলে যাই। পরে পরিকল্পিতভাবে ওরা আমার ঘেরে গিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আমার বসতঘরেও হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে মামলা করেছি।’
কর্মসূচির অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে মেম্বর বলেন, ‘কতজন কাজ করে, আপনারা সরেজমিন আসলে দেখতে পাবেন।’
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের টুআইসি এএসআই আলতাব হোসেন বলেন, ‘থানা থেকে ওসি স্যারের নির্দেশ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে মেম্বারকে উদ্ধার করা হয়। পরে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা সবাই ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে।’

আরও পড়ুন