মণিরামপুরে রাস্তা ভেঙে পুকুরে, জনদুর্ভোগ

আপডেট: 01:09:53 19/10/2017



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের আকরাম মোড় থেকে খেদাপাড়া সংযোগ সড়কের মাঝিয়ালী ঋষিপাড়া-সংলগ্ন এলাকায় পাকা রাস্তা ভেঙে পুকুরে পড়েছে। ১২ ফুট চওড়া পাকা সড়কটির প্রায় অর্ধেক অংশ পুকুরে বিলীন হওয়ায় যানবাহনসহ জনগণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে কথা হয় স্থানীয় লোকজনসহ পথচারীদের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিদিন বেশ কিছু ট্রাক নানা কারণে এই সড়কে চলাচল করে। তাছাড়া ইজিবাইকসহ শত শত ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে করে হাজারো মানুষের চলাচল এই রাস্তায়। দিনের বেলায় চলাচলে কষ্ট তো আছেই, রাতের আঁধারে জায়গাটি হয়ে ওঠে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয়রা জানালেন, মাঝিয়ালী গ্রামের আব্দুল করিম মাস্টার পুকুরটির মালিক। কয়েকমাস আগে তিনি স্কেভেটর দিয়ে অনেক গভীর করে পুকুর খনন করে পাশের ভাটায় মাটি বিক্রি করেছেন। স্কেভেটরে মাটি কাটা শেষ না হতেই ভারি বর্ষায় রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙে পুকুরে পড়ে গেছে।
তবে এই ব্যাপারে পুকুর মালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল বলেন, ‘পুকুর খনন করার সময় বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা শোনেনি। এরপর বর্ষায় মাটিসহ পাকা রাস্তার অর্ধেক ভেঙে পুকুরে পড়েছে।’
বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে বলে জানান মেম্বার রেজাউল।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘রাস্তার পাশে পুকুর বা ভেড়ি নির্মাণ করতে গেলে কিছু নীতিমালা মেনে চলতে হয়। কিন্তু অনেকে সেটা না মেনেই সড়কের পাশে ভেড়ি বা পুকুর কেটে থাকেন।’
‘মাঝিয়ালী গ্রামের রাস্তা ভেঙে পুকুরে পড়ার বিষয়টি আমার জানা আছে। দ্রুত কী করা যায়, দেখছি,’ বলেন প্রকৌশলী সুফিয়ান।
আর এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন ইউএনও ওবায়দুর রহমান।
এদিকে সড়কটির আকরাম মোড় থেকে মাঝিয়ালী ঋষিপাড়া পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রাস্তার প্রায় সব অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পথচারী দ্বিতীয়বার আর ওই রাস্তায় যেতে চান না।
জালালপুর গ্রামের ভ্যানচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘দিনে ৩-৪ বার এই রাস্তায় চলাচল করা পড়ে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে চায় না। অনেক সময় রাতের বেলায় প্রসূতি নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া লাগে। একবার আসলে ফিরের বার এই রাস্তায় যেতে মন চায় না।’
আবুল কাশেমসহ মাঝিয়ালী গ্রামের ইসরাইলের দাবি, দশ চাকার ভারি ৪-৫টা ট্রাক প্রতিদিন এই রাস্তায় আসা-যাওয়া করে। সেই কারণে রাস্তার আজ এই বেহাল অবস্থা। এই বিষয়ে তারা দ্রুত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও পড়ুন