মণিরামপুরে ‘গায়েবি মামলা’, দশ বোমা উদ্ধারের দাবি

আপডেট: 08:08:58 17/10/2018



img

স্টাফ রিপোর্টারমণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে বিএনপি-জামায়াতের ৪৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা হয়েছে; যাকে ‘গায়েবি মামলা’ বলছে বিএনপি। বুধবার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলাটি করেছেন।
মামলায় দশজনকে আটক দেখিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন, উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে আব্দুল ফাত্তাহ (৩৫), পারখাজুরা গ্রামের মৃত জালাল সরদারের ছেলে আবুল বাশার (৩৭), কাশিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক (৫৩), কাশিমনগর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন (৫৪), গাংগুলিয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ গাজীর ছেলে আব্দুল গাজী (৪৬), হাসাডাঙ্গা গ্রামের আকবর আলী মোড়লের ছেলে মাসুদ রানা (২৮), টুনিয়াঘরা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৮), গাবুখালি গ্রামের মৃত মকিম মোড়লের ছেলে ইউসুফ আলী (৫০), রঘুনাথপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে বেকারি মালিক কামাল হোসেন (৩২) এবং হাসাডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৪)।
মামলায় ৩৫ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। তারা হলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেন (৫৮), তার ছোট ভাই শাহিন (৪৫), ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (৫৫), রোহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (৫৬), মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গনি মোড়ল (৫৫), জালঝাড়া গ্রামের শামসের ফকিরের ছেলে সাবেক মেম্বার আনিছুর রহমান (৪০), উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা লিয়াকত হোসেন (৪৫), পৌর জামায়াতের সাবেক আমির শিক্ষক মহিউল ইসলাম (৫০), বাটভিলা গ্রামের খালেক মোল্যার ছেলে খলিলুর রহমান (৪০), জামায়াত নেতা গালদাহ গ্রামের মাওলানা আহম্মদ আলী (৫০), মাওলানা নুরুল ইসলাম (৫০) ও হাফেজ রিয়াজ (৪৫), খানপুর গ্রামের মৃত সফিউল্লার ছেলে মাওলানা নুর মোহাম্মদ (৫২), হরেরগাতি গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান (৫০), হাজরাকাটি গ্রামের মৃত ছনু মোড়লের ছেলে মোজাহার আলী ওরুফে সরু (৫৫), পাড়িয়ালী গ্রামের মাওলানা বশির আহম্মদের ছেলে আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৮), করেরাইল গ্রামের আব্দুল মান্নান সরদারের ছেলে জাকির হোসেন (৩০), লাউকুন্ডা গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে নাসির উদ্দিন (৩৫), সমসকাটি গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে খালিদ হাসান (২৮), ভোজগাতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা হুমায়ন কবির মুক্তার দুই ছেলে মুরাদ হোসেন (২৬) ও রিয়াদ হোসেন (২৪), চালকিডাঙা গ্রামের টিটুর ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৭), একই গ্রামের মৃত আহম্মাদ ডাক্তারের ছেলে হাসান আলী (২৪), জয়পুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে মিন্টু (২৮), জালঝাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), ভোজগাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার দফাদার (৫০), জয়পুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আলী কদর (২৮), হাজরাকাটি গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে আব্দুর রহমান (৪০), গাংড়া গ্রামের মৃত মফেজ উদ্দিন খাঁর ছেলে মমিন খাঁ (৫০), একই গ্রামের ময়েজ উদ্দিন খাঁর ছেলে মিল্টন (৪০), হরেরগাতি গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে সোহান (২৫), টুনিয়াঘরা গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৫), জয়পুর গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মাওলানা আব্দুল করিম (৫৫), কাশিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী (৪৭) এবং খোজালীপুর গ্রামের ভাটামালিক আব্দুল কাদের (৪৫)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, বুধবার ভোর ছয়টার দিকে আসামিরা মণিরামপুর ডিগ্রি কলেজ মসজিদের পশ্চিম পাশে মাঠে বসে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতেনাতে দশজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় বাকিরা পালিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দশটি তাজা বোমা উদ্ধার করে।
মণিরামপুর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেন মামলাটিকে ‘গায়েবি ও সাজানো’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ও মোয়াজ্জেম হোসেনকে মঙ্গলবার দুপুরে এবং কামাল হোসেনকে রাত দশটার দিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এখন তাদের জড়িয়ে কলেজমাঠের পাশে বসে নাশকতার পরিকল্পনার গল্প ফাঁদা হচ্ছে।

আরও পড়ুন