বহুবিবাহের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট: 08:40:05 16/11/2017



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার রিপা সিন্ডিকেট বিয়ের নাটক করে প্রতারণা করছে। বিয়ের নাটক করে বেকায়দায় ফেলে তার কাছ থেকে আদায় করছে সোনা টাকা সম্পদ। এসব আদায় করতে ব্যর্থ হলে রিপা আশ্রয় নিচ্ছে পুলিশ ও আদালতের। এভাবে হয়রানির মুখে পড়ে অনেকেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই রিপার মোট চারটি বিয়ে রয়েছে। তার মা সাবিনা ইয়াসমিন রীনারও বিয়ে চারটি। আর তার নানী যাত্রা নায়িকা রিজিয়ার আটটি বিয়ের তথ্য থাকলেও স্বামীর সংখ্যা অগণিত।  এমন তথ্য তুলে ধরে  সাতক্ষীরায় এক সংবাদ সম্মেলন করে রিপা সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর গ্রামের রিফাতুজ্জামান রিফাত। 
তার ভাই আবু মুছা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রিপা সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছে তার মা রীনা খাতুন, অ্যাড. নজরুল ইসলাম ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শেখ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, তারা ফাঁদে ফেলে টাকাকড়ি আদায় করছে। এদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবু মুছা জানান, তার ছোটভাই রিফাতুজ্জামান রিফাত ফায়ার সার্ভিসের শরিয়তপুর ইউনিটে কর্মরত থাকাকালে চার মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে সাতক্ষীরার লাবসা গ্রামের বহু বিবাহের নায়িকা নাজমা সুলতানা রিপার সাথে। এই সুযোগে রিপা তার মা রীনার মাধ্যমে তাকে প্রায়ই বাড়িতে দাওয়াত দিতে থাকে। এরইমধ্যে রিফাত বদলি হয়ে সাতক্ষীরায় আসেন ২৩ আগস্ট। এই সুযোগে রিপা ও তার মা সাবিনা ইয়াসমিন রীনা গত ৬ অক্টোবর দুপুরে তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে বিশেষভাবে অনুরোধ করে। রিফাতও সরল বিশ্বাসে দাওয়াত খেতে যায়। তারা প্রতারক অ্যাড. নজরুল ইসলাম ও নিকাহ রেজিস্ট্রার শেখ সাইদুজ্জামানসহ কয়েকজনকে প্রস্তুত রাখে। রিফাত তাদের বাড়ি পৌঁছানোর পরই তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তার কাছ থেকে ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে টিপ সই করে নেওয়া হয়। এসব ব্যাপারে সে আপত্তি করলে তার ওপর চাপ দিয়ে বলা হয়, অন্যথায় তাকে পুলিশে দেওয়া হবে। তারা তার মুখে বালিশও চাপা দেয়। একপর্যায়ে তাকে ধারাল অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। এছাড়া নীল বর্ণের কাগজে রিফাতের স্বাক্ষর ও টিপ সহি নেওয়া হয়। কিছু সময় পর তারা ঘোষণা দেয় যে, রিপার সাথে রিফাতের বিয়ে হয়েছে। এ সময় রিপা, রিফাত ও অ্যাড. নজরুলকে এক স্থানে বসিয়ে ছবি তোলা হয়। এই ছবি তারা চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এই ছবি ব্যবহার করে নোটারি পাবলিকের কার্যালয় থেকে একটি ভুয়া এফিডেভিট বের করে তারা।
আবু মুছা আরও জানান, তার ভাই রিফাত প্রতারকচক্রের খপ্পর থেকে বেরিয়ে ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫ টায় তাকেসহ পরিবারের সবাইকে বিষয়টি অবহিত করে। ওই রাতেই রিপা চক্রের এই প্রতারণার বিরুদ্ধে মামলা করেন রিফাত। 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রিপা এ যাবত কমপক্ষে চারটি বিয়ে করেছে। তার রাব্বি নামে আট বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তার প্রথম স্বামী মেহেদি হাসানের সাথে বিয়ে নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। আগামি ২০ নভেম্বর এই মামলার দিন ধার্য আছে। তিনি জানান, দশ বছর আগে রিপা একইভাবে ঘরে আটকে প্রতারণামূলকভাবে লাবসার মেহেদি হাসানকে বিয়ে করতে বাধ্য করে।  দেড়বছর আগে মেহেদি ও তাদের শিশু রাব্বিকে ফেলে রেখে বেশ কিছু টাকা নিয়ে রিপা পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে ঢাকায় চলে যায়। পরে সেখান থেকে এসে রিপা মেহেদির বিরুদ্ধে মামলা করে। এ ধরনের দুটি মামলায় জেল খাটেন মেহেদি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রিপা মূলতঃ একজন বিয়ে প্রতারক ও মামলাবাজ। তার নামে থানায় কয়েকটি মামলা ও জিডি রয়েছে। রিপা এখন রিফাতের কাছে সাত লাখ টাকা দাবি করছে। এই টাকা না দিলে সে তাকে হয়রানি করবে এবং চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে। কিছুদিন আগ পর্যন্ত একজন আইনজীবীর মুহুরি ছিল নজরুল ইসলাম। এখন হঠাৎ তিনি উকিল সেজে প্রতারণা করছে। তার বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলে অভিযোগ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রতারক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছে শেখ কামরুল হাসান নামের এক ভুয়া সাংবাদিক। এই ভুয়া সাংবাদিক তার বাবার মামলায় জেল খেটেছে। 
আবু মুছা আরও জানান, রিপার চার বিয়ে, ওর মা রীনার বিয়ে চারটি, নানি রিজিয়ার বিয়ে আটটি, রিপার তিন খালার প্রত্যেকের তিনটি করে বিয়ে। এই পরিবারটিই গড়ে তুলেছে বিয়ে প্রতারণা সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট থেকে সবাইকে সাবধান থাকবার আহবান জানিয়েছেন আবু মুছা।

আরও পড়ুন