‘চেয়ারম্যান পলাশ হত্যা মামলার চার্জশিট ষড়যন্ত্রের’

আপডেট: 06:19:55 19/10/2018



img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক লতিফুর রহমান পলাশ হত্যার নয় মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। তবে, মামলার বাদী আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) লোহাগড়া আমলী আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে আটজনকে আসামি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে কুপিয়ে ও গুলি করে দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহত পলাশের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৫ জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে মামলার এক নম্বর আসামি ও নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামানকে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করেন। এর আগে পুলিশ মামলার দুই নম্বর আসামি শরীফ মনিরুজ্জামানের ছোট ভাই শরীফ বাকি বিল্লাহকে উপজেলার কুমড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়া, দিঘলিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহম্মেদ মাসুমকে ঢাকার বাসা বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর পুলিশি অভিযানের মুখে মামলার অন্য আসামি শেখ মাসুদুজ্জামান, বনি শেখ, কোটো শেখ, বাবু শেখ, ওহিদ সরদার, সৈয়দ হেদায়েত আলী, রওশন শেখ, নজরুল ফকির আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আসামি রিপন, সোহেল খাঁ, আবুল খায়ের, আব্দুর রব প্রথম থেকেই পলাতক রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে জানান, চার্জশিটে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মাসুদুজ্জামান, মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল খায়ের, আওয়ামী লীগ নেতা বনি শেখ, কোটো শেখ, কিবরিয়া, শান্ত, রোমান এবং আল-আমিন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও শহরের গোপীনাথপুর গ্রামের মাফিজুর শেখের ছেলে কিবরিয়া, কুমড়ি গ্রামের মৃত সৈয়দ ইলিয়াস আলীর ছেলে আল-আমিন ও একই গ্রামের সৈয়দ মিঠুর ছেলে রোমানের মোবাইল কললিস্ট ট্রাকিং করে পুলিশ তাদের চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে এবং পরে গ্রেফতারকৃত ওই তিনজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ওই তিনজন কুমড়ি গ্রামের কোটো শেখের ছেলে শান্ত শেখের নাম উল্লেখ করলেও তিনি এখনো পলাতক।
অপর দিকে, অভিযোগপত্র থেকে যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান, দিঘলিয়া ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদ সরদার, দিঘলিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহম্মদ মাসুম, আব্দুর রব, সোহেল খাঁ, নজরুল ফকির, বাকি বিল্লাহ, বাবু শেখ, রওশন শেখ, সৈয়দ হেদায়েত আলী, রিপন শেখ ।
শুক্রবার দুপুরে মামলার বাদী নিহত চেয়ারম্যান পলাশের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই চার্জশিট নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই চার্জশিট দাখিল করেছে। এতে মূল আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটা বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। এর বিরুদ্ধে আইনগতভাবে লড়াই করা হবে।’

আরও পড়ুন