মণিরামপুরের হাজরাকাঠিতে ফের জমজমাট জুয়া

আপডেট: 09:00:25 15/01/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মনিরামপুর উপজেলার হাজরাকাঠি-বেলতলা বাজারের পাশে আবার জমজমাট জুয়ার আসর চলছে।
সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত এ আসরে যোগ দিচ্ছেন মণিরামপুর, কেশবপুর, ঝিকরগাছা, সাতক্ষীরার কলারোয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা। ক্ষমতাসীন দল আশ্রিত আবুল হাসান নামে এক ব্যক্তি ওই জুয়ার বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ। যদিও আবুল হাসান বলছেন, এক সপ্তাহ ধরে বোর্ড বন্ধ রয়েছে।
কিন্তু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলছেন, প্রতিদিন যশোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়াড়িরা এখানে এসে আসর জমাচ্ছেন। ওই বোর্ডে প্রতিরাতে কোটি টাকা হাতবদল হচ্ছে। নানা চেষ্টা করেও বোর্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের আবুল হাসানের নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে এ জুয়ার বোর্ড চলে আসছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসন জুয়ার বোর্ড উচ্ছেদ করে। কিন্তু গেল সপ্তাহে আবার শুরু করা হয়েছে জুয়ার। আর এ বোর্ডটি বসানো হয়েছে বেলতলা বাজারের পশ্চিম পাশে মাঠের মধ্যে বোর্ড পরিচালনাকারী হাসানের নিজের মাছের ঘেরপাড়ে।
জুয়ার বোর্ড নির্বিঘেœœ চালাতে হাসানের সহযোগী হিসেবে আরো কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিন তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে জুয়াড়িদের ‘ম্যানেজ’ করে এ আসরে নিয়ে আসেন।
এছাড়া কলারোয়ার রেজাউল ইসলাম, বেলতলার রুহুল কুদ্দুস ও ইউসুফ আলী জুয়াড়িদের আপ্যায়নসহ নির্বিঘ্নে জুয়ার বোর্ড চলতে বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা দেন।
তবে জুয়ার বোর্ডের কথিত পরিচালক আবুল হাসানের দাবি, এক সপ্তাহ ধরে বোর্ড বন্ধ রয়েছে।
কিন্তু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জুয়ার বোর্ড চলছে বলে নিশ্চিত করেন। বলেন, ‘বেলতলার জুয়ার বোর্ড এখনো চলছে। যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা এখানে আসায় প্রতিরাতে কোটি টাকা হাতবদল হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেছি।’
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘‘মানুষ বেড়া দেয় ‘কাঁকড়’ রক্ষার জন্য, কিন্তু বেড়ায় যদি ‘কাঁকড়’ খায় তাহলে ঠেকাবে কে?’
চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি তুলে দেখেছি প্রশাসন আমার ওপর নাখোশ।’
‘আমার মনে হয় চেয়ারম্যান না হলে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যেত,’ যোগ করেন আবুল হোসেন।
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আকরাম হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন।’
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (মণিরামপুর-সদর) জামাল আল নাসেরের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। সকালে একটা ফোন দিয়েন।’

আরও পড়ুন