শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী স্কুলে যেতে পারছে না

আপডেট: 02:19:55 18/08/2017



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পাংখারচর গ্রামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে আজ সকাল ১০টার দিকে লোহাগড়ার পাংখারচর কাজীপাড়ায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পাংখারচরের বাসিন্দা লিয়াকত আলী কাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সরস্বতী অ্যাকাডেমির প্রধান শিক্ষক এ কে এম আরিফ-উদ দৌলা, স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাসুদ রানা, ইতনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাদুজ্জামান, কাজী বুলবুল আহম্মেদ, ওবায়দুর কাজী, স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন খানম, নবম শ্রেণির রাশেদ কাজী, অষ্টম শ্রেণির মাসুমা আক্তার, আশা খানম প্রমুখ।
বক্তারা ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, লোহাগড়া উপজেলার পাংখারচরের কাজীপাড়ার রয়েল কাজী স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী বাড়ি ফেরার পথে রয়েল কাজীর নেতৃত্বে কাজীপাড়ার বাবু শেখ, নয়ন সরদার, জুয়েল কাজী, ফয়েজ কাজী ও বাঁধন কাজী গতিরোধ করে। ওই শিক্ষার্থীকে জাপটে ধরে বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশী এক নারী ছুটে এসে বাশ নিয়ে ধাওয়া করেন বখাটেদের। উদ্ধার পায় মেয়েটি।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ৩ আগস্ট রাতে লোহাগড়া থানায় রয়েল কাজীসহ ছয়জনের নামে মামলা করেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আক্রান্ত ছাত্রী বলে, ‘ঘটনার পর থেকে ভয়ে আমি স্কুলে যেতে পারছি না। সেইদিনের শ্লীলতাহানির ঘটনায় এলাকার অনেকে আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করছে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউও কটূক্তি করছে। এখন আমি কী করব?’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এ কে এম আরিফ-উদ-দৌলা বলেন, ‘সেদিনের ওই ঘটনার পর থেকে মেয়েটি কেমন যেন নির্জীব হয়ে গেছে। লেখাপড়ায় অমনোযোগী ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মেয়েটি আমার স্কুলের নবম শ্রেণির মানবিক শাখার শিক্ষার্থী।’
ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘মামলা তুলে নিতে আসামি পক্ষের লোকজন আমাদের হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় গত বুধবার (১৬ আগস্ট) লোহাগড়া থানায় জিডি করেছি।’
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এসআই রানাপ্রতাপ ঘোষ জানান, ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া বাদী পক্ষকে হুমকির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন