স্মৃতিস্তম্ভের জমি দখলের অভিযোগ এমপির বিরুদ্ধে

আপডেট: 08:25:56 21/10/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর ২ আসনের (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিস্তম্ভের জমি দখলের অভিযোগ করেছেন এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ভাই গোলাম মোর্তজা জেম।
রোববার সকালে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তবে সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেম বলেন, ‘আমার ভাই মাফিজুর রহমান হেম ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আগস্ট মাসে আমার ভাই পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। পরে পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে তিনি শহীদ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু এখবর জানার পর একটি শোকবার্তা ও দুই হাজার টাকার চেকও পাঠান। ওই সময় আমার বাবা আবদুর রব সরদার ও এমপি মনিরুল ইসলামের বাবা আবুল হোসেন মিলে আমার পৈত্রিক পৌনে ছয় শতক জমিতে স্মৃতিসৌধের জন্য নির্ধারণ করে মাটি ভরাট করেন। তখন থেকে ওই স্থানে হেমের নামে বিভিন্ন রকম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। বর্তমানে ওই জমির মালিক আমি নিজে।’
‘স¤প্রতি এমপি মনিরুল তার বাবা আবুল হোসেন ফাউন্ডেশনের নামে আমার ভাইয়ের স্মৃতিসৌধের জন্য নির্ধারিত জমিসহ দুই ভূমিহীন মহিলা আনোয়ারা বেগম ও কুলসুম বিবির সরকার প্রদত্ত ২২ শতক জমিসহ বিভিন্ন মালিকের প্রায় তিন একর জমি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দখল করে নিয়েছেন। আমি জমিটি দখলমুক্ত রাখার জন্য জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে আবেদন করেও কোনো ফল পাইনি,’ বলেন জেম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের স্মৃতিস্থানটি সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এই সময় ভূমিহীন আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গোলাম মোর্তজা জেমের বক্তব্য সঠিক নয়। জেম ও আমরা একই বংশের। সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী লোক। ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইতে উপজেলা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। যে জমি নিয়ে সে অভিযোগ করছে, ওইখানে আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন নামে আমার এবং আমাদের অন্য শরিকরা মিলে একটি বাউন্ডারির মধ্যে ২২৫ শতক জমি। এর মধ্যে গোলাম মোর্তজা জেম তার এক ভাই ও তিন বোন মিলে নয় শতাংশ জমির মালিক। তাদের জমি বাদ রেখে আমি ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে দশ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গণপরিষদ সদস্য আবুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের নামে।’