‘১৭ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ১৫৪ জন’

আপডেট: 02:03:30 13/01/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ বলছে, বিদায়ী ২০১৭ সালে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১৫৪ জন। এদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৩৯ জন, নির্যাতনে ১২ জন, পুলিশের গুলিতে একজন ও পুলিশের পিটুনিতে দুইজন মারা গেছেন।
শুক্রবার ‘অধিকার’ তার বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিকটিম পরিবারগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ব্যাপক অভিযোগ থাকার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং দায়মুক্তি ভোগ করেছে।  কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ কথা বললেও স্থানীয়দের মতে তারা এমন কোনো ঘটনার কথা জানতে পারেননি। জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের নিকৃষ্টতম উদাহরণ হচ্ছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৭৭ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সনদের অনুচ্ছেদ ৬৭৮ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে নিহত ১৫৪ জনের মধ্যে ১৩৯ জন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। অধিকার এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদের মধ্যে পুলিশের হাতে ১০৪ জন, র্যাবের হাতে ৩২ জন, ডিবি পুলিশের হাতে দুইজন এবং সেনাবাহিনীর হাতে একজন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১২ জন নির্যাতনের কারণে মারা গেছেন। এদের মধ্যে পুলিশের হাতে নয়জন, র্যাবের হাতে একজন, বিজিবির হাতে একজন এবং সেনাবাহিনীর হাতে একজন নিহত হন। এসময়ের মধ্যে পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন একজন ও পুলিশের পিটুনিতে দুইজন মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ১৫৪ জনের মধ্যে দুইজন বিএনপি নেতা, একজন ছাত্রশিবিরকর্মী, একজন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের স্থানীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক, একজন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য, একজন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির (মৃণাল বাহিনী) সদস্য, একজন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, দুইজন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) সদস্য, একজন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) সদস্য, একজন সর্বহারা পার্টির সদস্য, পাঁচজন জেএমবির সদস্য, একজন হরকাতুল জিহাদ-আল-ইসলামীর সদস্য, একজন গরু ব্যবসায়ী, একজন সাধারণ গ্রামবাসী, দুইজন ব্যবসায়ী, একজন কাঠমিস্ত্রি, একজন কৃষক, একজন ড্রাইভার, একজন চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী, দুইজন বিভিন্ন মামলার আসামি, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ১১৯ জন কথিত অপরাধী। এছাড়া সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৬ জনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে নয়জনের লাশ পাওয়া গেছে এবং ৪৫ জনকে গুম করার পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ১৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত বাকি ১৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অধিকার এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে একজন সাংবাদিক নিহত, ২৪ জন আহত, নয়জন লাঞ্ছিত, ১১ জন হুমকির সম্মুখীন এবং সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন