‘চাঁদা নিতে গিয়ে’ জনরোষে পুলিশ কর্মকর্তা, বিক্ষোভ

আপডেট: 01:49:29 18/04/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন যশোর শহরতলীর শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ে জনতার রোষানলে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তিনি সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ওই এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই জাকির হোসেন। তার দাবি ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায়কারীকে আটক করার সময় চালকরা বাধা দেয়। এ সময় একটু সমস্যা হয়। তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সপ্তাহান্তে শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ের ইজিবাইক চালকদের দুই হাজার করে টাকা তুলে দিতে হয় এসআই জাকিরের হাতে। এছাড়া ওই মোড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তিনি চাঁদা আদায় করেন। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি হাইকোর্ট মোড়ে আসেন এবং নির্ধারিত চাঁদা না দেওয়ায় আজিজুল ও আরমান নামে দুই চালককে মারপিট করে হাতকড়া পরিয়ে ক্যাম্পে নিতে উদ্যত হন। অন্যান্য চালক এবং ব্যবসায়ীরা এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন।
খবর শুনে ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসআই জাকির তাকেও ধাক্কা দেন। এ সময় এলাকার লোকজন আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন
খবর পেয়ে তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ এএসআই হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে হাজির হন। তিনি এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলার সময় কৌশলে এসআই জাকির হোসেন পালিয়ে যান।
পরে ওই এলাকার লোকজন এসআই জাকির হোসেনের বিচার এবং তাকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তবে এসআই জাকির তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘ইজিবাইক চালকদের কাছে থেকে এক যুবক প্রায় চাঁদা আদায় করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় চালকরা তাকে ছাড়িয়ে নেয়।’
ওই যুবকের নাম অবশ্য এসআই জাকির হোসেন বলতে পারেননি।
এক প্রশ্নের জবাবে এসআই জাকির দাবি করেন, ‘উত্থাপিত অভিযোগ সঠিক না। চাঁদাবাজরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।’
তার বিরুদ্ধে কেন বিক্ষোভ হয়েছে জানতে চাইলে এসআই জাকির বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই।’
এই বিষয়ে আরো জানার জন্য এএসআই হুমায়ুন কবিরকে ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কোতয়ালী থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন