‘আলোর ফেরিওয়ালা’ও প্রতারণায় অভিযুক্ত

আপডেট: 04:52:06 21/01/2019



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার কার্যকর করতে মণিরামপুরে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ নামে পল্লী বিদ্যুৎ টিম কাজ করছে। দালালদের খপ্পরের হাত থেকে জনগণের ভোগান্তি কমাতে গত ৬ জানুয়ারি থেকে মণিরামপুরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’র দুটি টিম। তবে ভোগান্তি কম হওয়াতো দূরের কথা ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ টিমের বিরুদ্ধে উঠেছে গ্রাহককে প্রতারিত করে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ টিম বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেও সংযোগ পাওয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা টাকা। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের রশিদ দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছেন না টিমের সদস্যরা। আর এই ক্ষেত্রে গ্রাহকরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে সাত-পাঁচ বুঝিয়ে দিচ্ছে টিম।
সরেজমিন এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শামছুদ্দিনের বাড়িতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ টিম পৌঁছেছে গত রোববার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে। দ্রæত তার বাড়িতে মিটার লাগিয়ে সংযোগ দেয় টিম। এসময় তারা শামছুদ্দিনের কাছ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা নিলেও বিপরীতে তাকে রশিদ দিয়েছে মাত্র ৯৬৫ টাকার।
একইভাবে ওই গ্রামের অমল মণ্ডলের বাড়িতে সংযোগ দিয়ে এক হাজার ১৫০ টাকা নিয়েছে টিম। তাকে দিয়েছে ৫৬৫ টাকার রশিদ।
একই সময়ে পাশের মাহমুদকাটি গ্রামের জামাল হোসেনের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে টিমের সদস্যরা তিন হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তাকে দেওয়া হয়েছে ৫১৫ টাকার রশিদ।
যশোর-২ মণিরামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস সূত্র বলছে, যাদের বাড়িতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ যাবে, যদি ওই বাড়িতে ঘর ওয়্যারিং করা থাকে, সেক্ষেত্রে সংযোগ দিয়ে এক কিলোওয়াট শক্তির বিপরীতে টিম ৫৬৫ টাকা গ্রহণ করতে পারবে। যদি দুই কিলোওয়াট শক্তি হয় বা পাকা বাড়ি হয়, সেক্ষেত্রে আরো ৪০০ টাকা গ্রাহককে বেশি দিতে হবে। আর যদি ওয়্যারিং করে সংযোগ দেওয়া হয় তাহলে এর সঙ্গে ওয়ারিংয়ের সরঞ্জামের মূল্য যোগ হবে। তবে এসব টাকা অবশ্যই ভাউচারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
অমল মণ্ডলের ভাই কোমল মণ্ডল বলেন, ‘‘সংযোগ দেওয়ার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। আমাদের ঘরে আগ থেকে ওয়্যারিং করা ছিল। ওরা শুধু মিটার বসিয়ে সংযোগ দিয়ে এক হাজার ১৫০ টাকা নিয়েছে। আর ভাউচার দিয়েছে ৫৬৫ টাকার। বাকি টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে বলেছে ‘অফিস খচর লাগবে।’’
কোমলের অভিযোগ, ‘আলোর ফেরিওয়ার কথা শুনে প্রথমে আনন্দিত হইছি। ভাবিছি, এবার হয়তো আর দালালদের টাকা দিতি হবে না। সঠিকভাবে কম খরচে বিদ্যুৎ সংযোগ পাব। কিন্তু এখন দেখছি, এই টিমের কাজও সেই দালালদের মতোই।’
জামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমি গরিব মানুষ, ভ্যান চালিয়ে খাই। আমার বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করিছি। রোববার ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ দেখে আনন্দিত হয়ে তাদেরকে বাড়িতে নিয়ে যাই। আমার মাটির ছোট্ট একটা ঘর। তারা ঘর ওয়্যারিং করে সংযোগ দিয়ে প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে। রশিদ দিয়েছে মাত্র ৫১৫ টাকার।’’
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ পেয়ে সোমবার বিকেলে সরেজমিন তদন্তে যান যশোর-২ মণিরামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রাজগঞ্জ শাখার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) ফাকরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন।
যশোর-২ মণিরামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রশিদ মৃধা বলেন, ‘‘গ্রাহকদের হয়রানি কমাতে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ টিম কাজে নেমেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’

আরও পড়ুন