১৬ জুলাই থেকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যশোর মেডিকেল কলেজ

আপডেট: 01:35:29 16/07/2016



img

স্টাফ রিপোর্টার : ১৬ জুলাই নিজস্ব ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে যশোর মেডিকেল কলেজ-যমেক। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে অস্থায়ীভাবে কলেজের কার্যক্রম চলে।
১৬ জুলাই প্রথম দিনেই কলেজের ৪র্থ ও ৫ম বর্ষের প্রফেশনাল চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৮১জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের (ইয়ার ফাইনাল) মাধ্যমে শুরু হবে কলেজের পথচলা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবু হেনা মোঃ মাহাবুব উল মওলা চৌধুরী। তবে, ভবন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে এখনও সময় লাগবে বলে তিনি যানান।
কলেজের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিনে কলেজের ৪র্থ বর্ষের ফার্মাকোলজি ও ৫ম বর্ষের মেডিসিন প্রফেশনাল চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষায় মোট ৮১জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। এরমধ্যে ৪র্থ বর্ষে ৬১জন এবং ৫ম বর্ষে ২০জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কাক্সিক্ষত ক্যাম্পাসে পা দিতে পারছেন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম বর্ষসহ সকল বর্ষের ক্লাস নিজস্ব ভবনে হবে। ইতিমধ্যে কলেজের সকল আসবাবপত্র অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে নিজেদের ভবনে নেওয়া হয়েছে। সাজানো হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ক্লাস রুম। ১২ জুলাইয়ের মধ্যে কলেজের ছেলে শিক্ষার্থীরাতাদের নিজস্ব হোস্টেলে উঠেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে মেয়েরা কলেজ হোস্টেলে এখনো ওঠেননি।
কলেজের শিক্ষা শাখার অফিস সহকারী আব্দুর সবুর বলেন, পরীক্ষা শেষ হয়েও এখানে পরবর্তীতে আটটি বিষয়ে ক্লাস চলবে। এগুলো হচ্ছে, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োফার্মা, ফরেনসিক মেডিসিন, কমিউনিটি মেডিসিন, ফার্মাকোলজি, ও প্যাথলজিকাল বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস এখানে হবে। এবং ক্লিনিক্যাল ক্লাসগুলো হাসপাতালে নেবেন শিক্ষকরা।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে মাত্র ৫৩ জন শিক্ষর্থী নিয়ে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ইন্টার্নসহ পাঁচটি ব্যাচে এ প্রতিষ্ঠানে মোট তিনশ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু নিজস্ব ভবন না থাকায় আস্থয়ী ভবনে ক্লাস ও প্রাকটিক্যাল রুম না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়াও নিজস্ব ভবন না থাকায় কোটি কোটি টাকার আধুনিক মেশিন ও উন্নত যন্ত্রপাতি স্থাপন করাও সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীরাও সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ফলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সংগ্রামও করেছেন।
মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডা. মাহবুবা আক্তার আঁখি বলেন, নিজস্ব ভবন না থাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস করতে যেয়ে মারাত্মক সমস্য হচ্ছিল। স্থান সংকুলান না হওয়াই ঠাসাঠাসি করে ছোট্ট রুমে ক্লাস করতে হয়েছে। কিন্তু এখন নিজস্ব ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়াই এই সমস্যা আর থাকবে না।
২০১৬ সালে প্রথম ব্যাচ হিসাবে বের হয়ে নিজেদের ক্যাম্পাসে ক্লাসের স্বাদ না পেলেও এইটুকু সান্তনা যে আন্দোলন করে আমাদের পরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে একটা পেরেছি- বলেন তিনি।
কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মাহাবুব উল মাওলা চৌধুরী জানান, অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে শনিবার থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছি। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সময় না থাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে হচ্ছে। আগামীতে মন্ত্রী মহোদয়ের দেওয়া সময়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে ভবন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।

আরও পড়ুন