হারতে নারাজ প্রতিবন্ধী আজগার

আপডেট: 08:12:42 11/01/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : আজগার আলী (৩৫)। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। বাম হাত ও দুই পা বাঁকা। হাত-পায়ে শক্তি খুব কম পান বললেই চলে। কথাও বলতে পারেন না ঠিকমতো। তবুও জীবন সংগ্রামে হারতে নারাজ এই ব্যক্তি। কখনো দোকানদারি করে আবার কখনো ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ তার। স্থানীয়রা এই জন্য আজগারের খুব প্রশংসাও করেন। তারা বলছেন, অন্য কেউ হলেতো ভিক্ষা করে খেতেন। কিন্তু আজগার তা না করে ভ্যান চালানোর মতো কঠিন কাজ করে জীবন চালায় এর জন্য এলাকাবাসী তার প্রতি সন্তুষ্ট।
মণিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের ওমর আলীর একমাত্র ছেলে এই প্রতিবন্ধী আজগার আলী। স্ত্রী, দুই সন্তান, বাবা-মা ও তিন বোন নিয়ে তার সংসার। পুরো সংসারটাই তার ওপর নির্ভরশীল। বাড়ির সামনে ছোট একটি দোকান ও পায়ে চালিত ভ্যান চালিয়ে এতো বড় সংসার চালাতে হয় তাকে। অবশ্য তার বৃদ্ধ বাবাও তাকে দোকানের কাজে সহযোগিতা করেন।
বুধবার বিকেলে রাজগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যান ভর্তি মালামাল দিয়ে খেদাপাড়া বাজারের দিকে যাওয়ার পথে দোঁদাড়িয়া বটতলা মোড়ে কথা হয় আজগার আলীর সঙ্গে।
সুবর্ণভূমিকে তিনি বলেন, ‘আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই, তবুও ভিক্ষা করি না। আগে আয় বেশি হতো। এখন ইনজিনভ্যান বেশি হওয়ায় দিনে এক-দেড়শ টাকা হয়।’
প্রতিবন্ধী ভাতা পান কিনা জানতে চাইলে আজগার আলী বলেন, ‘ওয়ার্ডের আগের মেম্বর খোকন থাকতি কয়মাস আগে একটা কার্ড কইরে দেছে। কার্ড করতি আমার কাছ থেকে তারা দুই হাজার টাকা নেছে।’
দোঁদাড়িয়া মোড়ের চা বিক্রেতা শামসুর, স্থানীয় বিল্লাল ও উত্তমসহ অনেকেই বলেন, আজগার প্রতিবন্ধী হলেও কাজ করে খান। অন্য কেউ হলে হয়তো ভিক্ষা করে খেতেন।
এদিকে টাকার বিনিময়ে কার্ড করে দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে সাবেক মেম্বর আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি। স্থানীয় আলা নামের এক লোক তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়েছে শুনেছি।’