হরিহরপারের গাছ কেটে আত্মসাতের হিড়িক

আপডেট: 02:57:34 31/01/2019



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :  কেশবপুরে হরিহর নদী খননের খবর এলাকায় রটে যাওয়ায় দুই পাড়ের জবর-দখলকারীদের মধ্যে গাছ কাটার হিড়িক পড়ে গেছে।
কেশবপুর সদরের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজশে এ গাছ কর্তন চলছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই লক্ষাধিক টাকা দামের ১৫টি রেন্ট্রি গাছ জব্দ করেছে।
২০-২৫ বছর আগে হরিহর নদীর দুই পাড় দিয়ে রেন্ট্রি, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। স্থানীয়রা এসব গাছ ভোগ দখল করে আসছিলেন।
সম্প্রতি কেশবপুর শহরকে বন্যামুক্ত করতে হরিহর নদী খননের টেন্ডার হওয়ার খবর এলাকায় রটে। এরপর জবর-দখলকারীরা ওই সব গাছ নিজেদের দাবি করে কেটে আত্মসাৎ করতে শুরু করে।
হরিহর নদীর পূর্ব পাড়ের ঠাকুরপাড়া এলাকায় শতাধিক রেন্ট্রি রয়েছে। ১৫ দিন আগে রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত শান্তিপদ বোসের ছেলে রতন বোস ও তার সহযোগীরা এরমধ্যে থেকে ১৫টি গাছ কেটে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে; যার দাম দুই লক্ষাধিক টাকা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে ১৫টি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। কিছু গাছ আগেই বিক্রি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ভ‚মি অফিসের লোকজন গিয়ে গাছ কাটতে নিষেধ করে আসেন। ওই সময় গাছ কাটা কিছুদিন বন্ধ থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ফের এই অপতৎপরতা শুরু হয়েছে।
গাছের মালিকানা দাবি করে রতন বোস বলেন, ‘হরিহর নদীর পাশে হলেও গাছগুলো আমাদের জমিতে রোপণ করা। ভূমি অফিসের অনুমতি নিয়েই গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে কেশবপুর সদরের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন, ‘গাছ কাটার খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সার্ভেয়ার মাপযোগ করার পর তাদেরকে গাছ কাটতে বলা হয়েছে।’
আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে থানার উপপরিদর্শক মেহেদী বলেন, পুলিশ হেডকোয়াটারের নির্দেশে গত সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এনামুল হক বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও গাছ কাটলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন