স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে জামিনে মুক্ত ইসলাম

আপডেট: 09:21:04 09/08/2019



img

শহিদুল ইসলাম দইচ : স্ত্রী ও সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন আলোচিত মোহাম্মদ ইসলাম (৪৯)। স্ত্রী-ছেলেকে স্বীকৃতি না দেয়া সংক্রান্ত মামলায় তার (কয়েদি নম্বর-৯২৯৪/এ) যাবজ্জীবন সাজা হয়।
ইসলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ মৃধার ছেলে।
আজ শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুরে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এসময় কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা, দুই বোন ও এক ভাই। তবে, বাবার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা ইসলামের ছেলে মিলন ও স্ত্রী মালা উপস্থিত ছিলেন না।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর মো. আবু তালেব বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে কারাবিধি অনুযায়ী ৪ বছর ৫ মাস ১৮দিন রেয়াতসহ মোট ১৯ বছর ১৭ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন ইসলাম। তার সাজা হয়েছিল ৩০ বছরের। ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি আদালত তাকে দণ্ডাদেশ দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন।
সন্তান ও স্ত্রীকে মেনে নেয়ার শর্তসাপেক্ষে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এরআগে চলতি বছরের ৩১ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফের বিয়ে দেয়া হয়। এরপর ঝিনাইদহ কারাগারে ইসলামের জামিন আদেশ পৌঁছালে সেখান থেকে যশোর কারাগারে পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী আজ (৯ আগস্ট) তাকে মুক্তি দেয়া হল।
তিনি বলেন, ‘এই রায় বন্দিদের সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
ছেলেকে নিতে আসা ইসলামের বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ছেলেকে মুক্ত করতে পেরে আমি অনেক খুশি। ইসলামের ছেলেকে আমরা অনেক আগেই মেনে নিয়েছি।’
পৌত্র মিলন কেন নিতে আসেনি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে তার মায়ের সাথে ঢাকায় রয়েছে। তারা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসবে।’
জামিনে কারামুক্ত ইসলাম বলেন, সন্তান পরিবারসহ আমি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই।’
আজ দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম তার বাবা ও ভাই-বোনদের সাথে যশোর কারাগার থেকে ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হন।
২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলাম প্রেম করে একই গ্রামের (লক্ষ্মীপুর) মালাকে বিয়ে করে। কিন্তু সাহস করে বাড়িতে নিতে পারেননি। একপর্যায়ে মালা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ইসলাম তাকে অস্বীকৃতি জানান। গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি নিয়ে মালা ইসলামের বাড়ি গেলে তাকে বের করে দেয়া হয়। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি মালা প্রসব করেন এক পুত্রসন্তান, তার নাম মিলন। মিলন ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মালার বাবা বাদী হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে ২০০১ সালে ধর্ষণের একটি মামলা করেন ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ইসলামকে আটক করে। কিন্তু ইসলাম আদালতেও মালা ও তার সন্তানকে অস্বীকার করেন। এসময় মালার আবেদনের প্রেক্ষিতে ছেলে মিলনের ডিএনএ টেস্ট করা হলে তার পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হয়।
আদালত ওই মামলায় ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত  করে ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলাম আপিল করলে রায় বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে সেখানেও ইসলামের সাজার রায় বহাল থাকে। পরে আপিল রিভিউ আবেদন করেন ইসলাম। রিভিউ শুনানিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে মালা ও মিলনের স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি তখন জানান, ইসলাম বর্তমানে মালাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চান। মিলনকে সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে তিনি নিজ বাড়িতে নিতে চান। ইসলামের আইনজীবীর এই বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এক আদেশে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে কারাভ্যন্তরে ইসলাম ও মালার আবারও বিয়ে পড়ানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে জেলরকে আগামী ২৯ আগস্ট এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর মো. আবু তালেব বলেন, আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপার, দু’পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও তাদের ছেলে মিলনের উপস্থিতিতে ইসলাম ও মালার বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের কাবিন উচ্চ আদালতে জমা দেওয়ার পর তার জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়।


আরও পড়ুন