সাতমাইল হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই সন্তুষ্ট নন

আপডেট: 08:45:37 07/08/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : কোরবানি ঈদের আগে আর মাত্র একদিন বসবে যশোরের শার্শা উপজেলার সাতমাইল গরুহাট। হাটে প্রচুর গরু উঠলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না ব্যাপারীরা। সে কারণে ঢাকামুখী হবেন বলে জানাচ্ছেন তারা। অপরদিকে, কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ক্রেতারা বলছেন, এবার গরুর দাম তাদের প্রতিকূলে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিপরীতমুখী বক্তব্য হলেও মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সাতমাইলের বিশাল হাটে সমাগম হয় বিপুল সংখ্যক মানুষের।
ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর এলাকার ক্রেতা ইসলাম আলী বললেন, ‘কোরবানির জন্যে গরু কিনতে দু-তিন হাট ঘুরেছি। গরুর সাইজ অনুযায়ী বিক্রেতারা বেশি দাম হাঁকছেন। গতবছর যে গরু ৭০ হাজারে কিনেছি, এবার তার দাম বলছে এক লাখের বেশি।’
শার্শার বালুন্ডা এলাকার আল মামুন বলেন, ‘মোটামুটিরকম একটি গরু পছন্দ হয়েছে। বাজেট ৭০ হাজার। কিন্তু তারা লাখের নিচে নামতে চাইছেন না।’
আবু তালেব নামে আরেক ক্রেতা বলছেন, ‘বেশ সুন্দর গরু পেয়েছি একটা। কিন্তু দেড় লাখের নিচে বিক্রি করবে না। আমি লাখ পর্যন্ত দাম বলেছি। বিকাল পর্যন্ত দেখবো, দামে পোষালে আজই  নিয়ে যাবো। নইলে শনিবারের হাটে আরেক দফা আসবো।’
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বছর পাঁচেক আগেও এই হাটে প্রচুর ভারতীয় গরু আসতো। কিন্তু জেলায় গরু মোটাতাজাকরণে কৃষকরা আগ্রহী হওয়ায় এখন আর তেমন আসে না। সাতমাইলের এই বড় হাটে এবার খামার ও বাড়িতে মোটাতাজা করা দেশি গরুর পাশাপাশি হরিয়ানা, সিন্ধি, বুগদায়, ফ্রিজিয়ান, জার্সি, পাকিস্তানি নানা জাতের গরু উঠেছে।
খামারি বেলায়েত মাস্টার বলেন, ‘আমি হরিয়ানা জাতের চারটি গরু এনেছি। ছয় লাখ দাম বলেছি, চার লাখ পর্যন্ত উঠেছে।’
ঝিকরগাছার খামারি আক্কাজ আলী হাটে এনেছেন পাকিস্তানি জাতের একটি বড় সাইজের কালো গরু। তিন বছর চার মাস বয়সী এই গরুটির দাম চাইছেন তিন লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। দুই লাখ ৮০ হাজারের কমে বেচতে চান না তিনি। ভারতীয় জাতের একটি ষাঁড়সহ চারটি গরু এনেছেন ব্যাপারী মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই এটি আজকের হাটের সবচেয়ে সুন্দর গরু। দাম তিন লাখ ২০ হাজার টাকা চাইছি। আড়াই লাখের নিচে নামলে লস হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত তিন হাট বেশ মন্দ যাচ্ছে। ঢাকায় ফোন দিয়ে জেনেছি, গাবতলী হাটে গরু নেই। আজকের হাটে সন্তোষজনক কিছু না হলে রাতেই ঢাকায় নিয়ে যাবো।’
হাট কমিটির সভাপতি ইলিয়াস কবীর বকুল বলেন, ‘আজকের হাটে প্রায় ১৫টি গরু উঠেছে। সাড়ে চার কোটি টাকা দিয়ে হাট নেওয়া হয়েছে। মূলত দুটি ঈদ আর শবেবরাতে বেশি বেচাকেনা হয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা না হওয়ায় এবার লোকসান হয়ে যাবে।’
হাটে প্রচুর আমদানি, কিন্তু বিক্রি নেই। সেকারণে এ অবস্থার সৃষ্টি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন