শীতজনিত রোগীর চাপ সাতক্ষীরা হাসপাতালে

আপডেট: 05:30:42 12/01/2019



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কোল্ড ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে এক সপ্তাহে হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পাঁচটি বেডের বিপরীতে ৪০ রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ১৯ মাস বয়সীর শিশুর সংখ্যা বেশি। তবে ২২ থেকে ৩৬ মাস বয়সের শিশুও কম না। বেড না থাকায় এই ওয়ার্ডে ভর্তি শিশুদের তীব্র শীতেও বারান্দায় বিছানা পেতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
হাসপাতালে নির্ধারিত শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, জ্বর, কিডনি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ৩৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া নবজাতকদের পরামর্শ কেন্দ্রে ০ থেকে ২৮ দিন বয়সী শিশু রয়েছে ১২টি।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট চরম। বিশেষ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের কোনো নির্ধারিত চিকিৎসক এই হাসপাতালে নেই।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামছুর রহমান স্বেচ্ছায় সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।
হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামছুর রহমান জানান, শীতকালে কোল্ড ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অনেক বাড়ে।
‘শীতে রান্না খাবার সহজে নষ্ট হয় না দেখে সকালের খাবার দুপুরে বা রাতে খাওয়া হয়। এতে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার শিশুদের শুকনা খাবার টোস্ট, কেক, ড্রাই কেক, চিপস এবং ভাজা জাতীয় মুখরোচক খাবারের কারণেও কোল্ড ডায়রিয়া হয়ে থাকে; যা বমির মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে পাতলা পায়খানায় গড়ায়। এতে আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে শিশুরা। তবে ভয়ের খুবএকটা কারণ নেই। যথাসময়ে চিকিৎসা প্রদান করলে শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে,’ বলছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান।
জেলার সিভিল সার্জন ও হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ডায়রিয়া বেড ও চিকিৎসক সংকটের ব্যাপারে বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড ও জায়গা বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন