শালিখার উজ্জ্বল উদ্ভাবন করেছেন ঘুনি তৈরির যন্ত্র

আপডেট: 03:06:45 14/07/2016



img
img

শিমুল হাসান, মাগুরা : মাছ ধরার বিশেষ উপকরণ ঘুনি তৈরির বৈদ্যুতিক যন্ত্র উদ্ভাবন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন মাগুরার শালিখার ধনেশ্বরগাতি মালোপাড়ার উজ্জ্বল লস্কর নামে এক যুবক। তার দাবি, দেশে এ ধরনের যন্ত্র উদ্ভাবন এটিই প্রথম।
মাধ্যমিক পেরুনো উজ্জ্বল লস্কর জানান, মাছ ধরার কাজে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপকরণ ঘুনি, কোনো কোনো এলাকায় যাকে ‘চাই’ বলে, কেবল হাতেই তৈরি করা হয়। বাঁশের সরু শলাকা ও সুতো দিয়ে এই ঘুনি হাতে তৈরি করা যায় দিনে সর্বোচ্চ একটি। এ কারণেই তার মাথায় আসে একটি যন্ত্র তৈরির চিন্তা। সে চিন্তা থেকেই ২০১২ সালে লোহার পাত, সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই যন্ত্র তৈরির কাজে হাত দেন তিনি। চলতি বছর যা সফল হয়। যন্ত্রটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এটি দিয়ে এখন প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ঘুনি তৈরি করা সম্ভব। যার বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দেশের সবখানে ঘুনি তথা চাইয়ের বিশেষ চাহিদা থাকে।
উজ্জ্বল লস্কর জানান, প্রথম বাঁশের চিকন শলাকা এই যন্ত্রে তাঁতে সুতা বুননের মতো বুনে দেওয়া হয়। পরে বাড়ির নারীরা ও কর্মচারীরা তা বেঁধে ঘুনির আকারে নিয়ে যায়। এই পদ্ধতিতে ঘুনি তৈরিতে এটি যেমন সহজলভ্য হচ্ছে তেমনি উৎপাদন খরচও কম পড়ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। আগে একটি ঘুনির উৎপাদন মূল্য ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এখন এই যন্ত্রে একই দিনে অনেক ঘুনি তৈরির ফলে তার গড় দাম শতকরা ৪০ ভাগ কমে যাচ্ছে। মুনাফা আসছে বেশি। চার বছরের চেষ্টায় উজ্জ্বল একটিমাত্র যন্ত্র তৈরি করতে পেরেছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই যন্ত্রের বাণিজ্যিক উৎপাদনও সম্ভব বলে উজ্জ্বলের দাবি।
এলাকার স্কুলশিক্ষক সুনীল বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে মাগুরায় ঘুনির যে বাজার রয়েছে তা আরো সম্প্রসারিত হতে পারে। যার ফলে অনেক বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি আর্থিক সঙ্গতি সৃষ্টি হবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত গ্রামীণ মানুষের।’
জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর নন্দী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাছ ধরার জন্য সরকারিভাবে যে উপকরণের নির্দেশনা আছে তার মধ্যে এটির নাম নেই। এ কারণে ঘুনি তৈরির যন্ত্র উৎপাদনে পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ এখনই নেই।’

আরও পড়ুন