লেখালেখি নিয়ে লেখা, ফিরে দেখা

আপডেট: 02:58:01 21/05/2018



img

সাগর জামান

পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকে আমার লেখালেখির সূত্রপাত । বড় ভাইদের লেখালেখির অনুপ্রেরণা আমাকে এই জগতে নিয়ে আসে। ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করি। তবে নব্বই দশকের শুরু থেকে আমার নিবিড় সাংবাদিকতার সুচনা । সমকালের সমাজ বাস্তবতার নিরিখে নান্দনিক সমালোচনা স্পষ্ট কথন বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখির মাধ্যমেই আমি এই বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানভিত্তিক পেশাকে চলমান রেখেছি। সমাজ বিনির্মাণে একজন সাংবাদিকের অনেক দায়িত্ব থাকে । এই অসীম দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে আমি নিরলস কাজ করছি। আমি এই দাবি আত্মতৃপ্তির জায়গা খেকে করি। মাগুরার সাংবাদিক কমিউনিটির মধ্যে আমার সাংবাদিকতার আঙ্গিকগত ভিন্নতা রয়েছে। ফিচার, কলাম, প্রবন্ধ রচনার মাধ্যমে আমি সাংবাদিকতায় নিয়োজিত রয়েছি। দেশের সব শীর্ষ পাঠকনন্দিত পত্রিকায় আমি অব্যাহত লেখালেখি করছি। পাঠকদের প্রশংসা আমাকে দায়িত্ববান ও নিষ্ঠাবান করে তুলেছে। বিভাগীয় সম্পাদকদের নানা পরামর্শ ভুল-ত্রুটির বিরুদ্ধে হম্বিতম্বি আর ভালোবাসার অপার বন্ধন আমার কাছ থেকে সঠিক কাজ আদায় করে নিয়েছে। আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। রপ্ত করেছি এ পেশাকে। যাদের কারণে সাংবাদিকতা আমি সহজে আয়ত্তে আনতে পেরেছি, আমার কাজ সহজ হয়েছে, তাদের কাছে আমি ভীষণ ঋণী। ন্যায় ও সততার পক্ষে অবিচল থেকে মানুষের কল্যাণে চলমান থাকার ব্রত নিয়ে আমার সাংবাদিকতা করে যাওয়া।
শৈশব থেকেই এক ধরনের স্থবির ব্যবস্থাকে বদলে দেয়ার ব্রত নিয়ে নতুন একটি স্বপ্নময় ব্যব্স্থাকে চলমান করার স্বপ্ন থেকে সৃজনশীল লেখালেখির জগতে আমার প্রবেশ ঘটে। কৈশোরিক আবেগ তারুণ্যকে স্পর্শ করে। একটু একটু করে জমতে থাকা স্বপ্নের শরীর ছুঁয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমি লেখার মুক্ত জগতে অবাধ বিচরণ শুরু করি। একটি বৈরী অবস্থার ভেতর বিরুদ্ধ স্রোতে আমার যাত্রা শুরু হয়। গাঁটের পয়সা খরচ করে পত্রিকা প্রকাশ করি। আলোকের এই ঝরনাতলে, অমল ধবল দিন, নীল আকাশ সোনালি রৌদ্র, ফিরে আসি মাটির টানে প্রভৃতি সাহিত্য কাগজের সম্পাদনার দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হয়। অনেক প্রতিকূলতা সৃষ্টির সুখের শক্তিতে প্রতিহত হয়। লেটার প্রেসের অনুন্নত মুদ্রণমান, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, মাগুরার খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিকদের মফস্বলী দৃষ্টিভঙ্গি পুরনো সাহিত্যধারা এসব পেছনে ফেলে আমার সৃষ্টি কুশলতা অব্যাহত থাকে। নতুন ধারার স্বপ্নে আবিষ্ট থেকে আমার লেখালেখি আর প্রকাশনা চলতে থাকে। আমি নিয়মিত আমাদের কাগজ প্রকাশ করতে থাকি। যেন স্বপ্নের বেসাতি করছি। একটি সুস্থ উন্মাদনায় স্বপ্নের বিকিকিনি। অনুপম একটি অনুভূতি নিয়ে মহানন্দে লেখালেখি করে যাই। এভাবে দীর্ঘ সময়। এরপর ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ি। দৈনিক আজকের কাগজে লেখা জমা দিই। আমার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। আমি সিরিয়াসলি লেখালেখি এবং পড়া শুরু করি। ভালো লেখক হতে হলে ভালো পাঠক হতে হয়। আমি মনোযোগী পাঠক বনে যাই। বিভিন্ন পত্রিকার সাহিত্য পাতাসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও গ্রন্থের অক্ষর শব্দের অরণ্যে হারিয়ে যাই। দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক আল আমীনে লিখতে থাকি। লিটল ম্যাগাজিন চর্চার পাশাপাশি ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় লেখার আনন্দ আমার লেখক চেতনাকে উদ্বেলিত করে। আমার স্বত্ত্বার মধ্যে মননশীল এক স্বত্ত্বা আরো ঝলসিত, আরো জাগরুক হয়ে ওঠে। এরপর বাংলাবাজার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হই। দীর্ঘদিন নিয়মিত লেখক হিসাবে আমি বাংলাবাজার পত্রিকায় লিখতে থাকি। গবেষণা ও নিরীক্ষাধর্মী লেখা। এর পাশাপাশি দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক যায়যায়দিন প্রভৃতি পত্রিকায় নিয়মিত লিখি। এ ছাড়া মাগুরা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে যেমন সাপ্তাহিক মাগুরা বার্তা, অঙ্গীকার, দৈনিক মাগুরা,মাগুরাবৃত্তান্ত, দৈনিক খেদমত- এসব পত্রিকায় বিস্তর লিখেছি। লেখাকে আমি হৃদস্পন্দনের মতো মনে করি। লেখা থেমে গেলে আমার হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যাবে। আমি আমৃত্যু লিখতে চাই। আমার লেখালেখি জীবনের প্রয়োজনে। জীবিকার প্রয়োজনে নয়। জীবিকার চাহিদা লিখে মেটানো কঠিন। এটা বুঝতে পারি। লেখার প্রাপ্তি পাঠকদের প্রিয়তা। পাঠকরাই লেখকদের মুখ্য পেট্রন। পাঠকরাই লেখকদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমার অপরিপক্ক লেখাও অনেকে ভালোবেসে গ্রহণ করেছে। লেখার উন্মাদনাকে উস্কে দিয়েছে। আমার অক্ষমতাকে অনেকে বাহবা দিয়েছে। এখনো আমি আমার অস্তিত্ব টের পাই পাঠকদের কারণেই। দীর্ঘ প্রতিকূল অবস্থা পেরিয়ে আজ এখানে এসে পৌঁছেছি। ছাপাখানার ভূতের উপদ্রবকে উপেক্ষা করে এগিয়ে গেছি। পত্রিকার সাইজ ছোট হয়ে গেছে। স্বল্প কলেবরে পত্রিকা প্রকাশ করেছি। কখনো নিন্দিত, কখনো নন্দিত হয়েছি। আকারে ছোট কাগজ শৈল্পিকভাবে নান্দনিক রূপে প্রকাশিত হয়েছে। সংযোজন করেছি দেশের নামী লেখকদের লেখা, তাদের নাম। নানা টানাপড়েনের মধ্যে গ্রন্থ প্রকাশের ঝুঁকি নিতে এখনো সাহস পাইনি। সংকটময় পরিস্থিতি আমার সামনে থেকে সরে গেলে নিশ্চয় একদিন উদ্যোগ নেবো। লেখার শক্তির কাছে পরাজিত হোক সব অশুভ শক্তি। লেখার জয় হোক। লেখালেখির মানুষেরা জয়ী হোক।