রেকর্ড ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সাতক্ষীরা বিআরটিএ’র

আপডেট: 03:02:06 14/07/2016



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের সব কার্যক্রম অনলাইনে হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৫ কোটি চার লাখ ৩০২ টাকা।
এ অর্থবছরে সাতক্ষীরা সার্কেলে মোট নয় হাজার ২১০টি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে ছয় হাজার ৮৮২টি। নবায়ন করা হয়েছে ৫১৯টি। ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে ৪০৪টি। রুট পারমিট ইস্যু করা হয়েছে ৫০টি এবং নবায়ন করা হয়েছে ২৭টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের আমলে সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃংখলা ও গতি আনার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেল। এ সব পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায় প্রতি বছরই বাড়ছে। অন্যদিকে গ্রাহক সেবার মানও দিন দিন উন্নত হচ্ছে।
বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেল সূত্রে জানা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করতে গ্রাহককে প্রথমে লারনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হয়। এরপর দুই মাস পরে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট দিতে হয়। উত্তীর্ণ হলে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি প্রদান করে আবেদন করতে হয়। গ্রাহকের বায়োমেট্রিক (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আগুলের ছাপ) নিয়ে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়। স্মার্ট কার্ড গ্রহণের জন্য গ্রাহককে এসএমএস-এর মাধ্যমে অবহিত করা হয়। মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন করতে সেবা গ্রহণকারীকে বিআরটিএ অফিসে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মোটরযানের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে সঠিক পাওয়া গেলে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে একটি অ্যাসেসমেন্ট স্লিপ দেওয়া হয় এবং ফি জমা প্রদানের পর গাড়িটি বিআরটিএ অফিসে হাজির করতে অনুরোধ করা হয়। গাড়িটি পরিদর্শন করার পর মোটরযান পরিদর্শকের সুপারিশসাপেক্ষে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) রেজিস্ট্রেশনের অনুমোদন দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরপূর্বক গ্রাহককে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট সরবরাহ করা হয়।
বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেল অফিসে মোটরযানের রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়ন, মোটরযানের ফিটনেস ইস্যু ও নবায়ন, মোটরযানের ট্যাক্স টোকেন ইস্যু ও নবায়ন, মোটরযানের হাই সিকিউরিটি উইন্ডশিল্ড স্টিকার (ডিকল) ইস্যু ও নবায়ন, বিনামূল্যে মোটরযান ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের আবেদনপত্রের প্রাপ্যতা, মোটরযান সংক্রান্ত পরিসংখ্যান, সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান, ইন্সট্রাক্টর লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, পরিবহনযানের কন্ডাক্টর লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করা হয়।
জেলার আশাশুনি উপজেলা থেকে আসা গ্রাহক রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলার হাবিবুল বাশার ও আড়–য়াখালী গ্রামের মোহাইমেনুল আলম জানান, লার্নার ও মোটরসাইকেলের কাগজপত্র করতে আসা লোকদের কাছে সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসে আগে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা শোনা যেত। কিন্তু এখন গ্রাহকরা খুব সহজে অনলাইনে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এখন এসব কাজ করতে কোনো বাড়তি টাকা লাগছে না।
বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ চৌধুরী তার দপ্তরের সফলতা ও ব্যর্থতা দুটিই রয়েছে বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনলাইনে ওয়ানস্টপ সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। চালকদের জন্য সর্বাধুনিক স্মার্ট লাইসেন্স সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা কমবে। ফলে মানুষ প্রতারিত হবে না। এছাড়া সাতক্ষীরা সার্কেলের নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সব অভিযোগ গ্রহণ ও নিস্পত্তি করা হয়। ফলে কাজকর্মে আসা মানুষের ভোগান্তি অনেক কমেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ভূমিকা ও পুলিশি অভিযানের কারণে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।’
বিআরটিএ অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা সব দালালকে সরিয়ে দিয়েছি। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়। এছাড়া যে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে হটলাইন নাম্বারে (০১৯৬৬৬২২০৭৭) গ্রাহকরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারছেন।’
এসব প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন ও সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবাসমূহ অনলাইনে প্রদানের ফলে বিআরটিএ অফিসে এসে এখন আর মানুষকে হয়রান হতে হয় না।’
‘খুব শিগগির জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ব্যাংকের টাকা জমা দেওয়ার জন্য একটি বুথ চালু করা হবে। যাতে মানুষ দ্রুত সেবা পায়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে এবং বিআরটিএ কার্যালয়ে কোনো দালাল প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে,’ বলছিলেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন