রাতে পুলিশি তাণ্ডব, আতঙ্কে পালিয়েছেন সেই তরুণী বধূ

আপডেট: 01:35:30 15/07/2016



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : শ্লীলতাহানির বিচার তো পেলেনই না; ভয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছেন নববিবাহিতা সেই তরুণী। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই তরুণীকে জোর করে চুম্বন করেন যশোর কোতয়ালী থানার এক অফিসার, তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই এইচএম মাহমুদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তো নেওয়া হয়ইনি, উল্টো রাতে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। কয়েকটি বাড়ির আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের খড়কী পশ্চিমপাড়া এলাকায় গিয়ে ‘পুলিশি সন্ত্রাসের’ চিত্র দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, থানার এসআই মিরাজ মোসাদ্দেক ও এসআই হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগকারী সেই তরুণী বধূকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে তার শাশুড়ি রেখা বেগম বলেন, ‘রাতে পুলিশ এসে এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে। ভয়ে বেটার বউ সূর্য ওঠার আগেই বাপের বাড়ি চলে গেছে।’
প্রতিবেশী খড়কী পশ্চিমপাড়ার আকবর আলীর বাড়িতে দেখা যায় সব আসবাবপত্র ভাঙাচোরা, এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। দরিদ্র রিকশাচালক আকবর তার ক্ষতিগ্রস্ত মালপত্রের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন।
প্রশ্নের জবাবে আকবর বলেন, ‘রমজানের বাড়ির পাশে থাকি- এটাই আমার অপরাধ। বুধবার দিবাগত রাতে কোতয়ালী থানার এসআই মিরাজ মোসাদ্দেক ও এসআই হাসানসহ অনেক পুলিশ আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা ঘরে থাকা ট্রাঙ্ক, ভাতের হাড়ি, টেবিল-চেয়ার, চালের ড্রামসহ সব মালামাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।’
পুলিশ ওই রিকশাচালকের ঘরের ট্রাঙ্কে থাকা নগদ ১৩ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় বলে তার অভিযোগ।
রমজানের আরেক প্রতিবেশী ফায়েক আলী মাটি কাটা শ্রমিক। তিনি জানান, এসআই মিরাজ মোসাদ্দেক ও এসআই হাসানসহ একদল পুলিশ বুধবার দিবাগত রাতে তার ঘরে ঢোকেন। তারা ঘরে থাকা একটি শো-কেস, আয়না, একটি টেবিল, দুটি টেবিল ফ্যান, একটি মোবাইল সেটসহ সমস্ত মালামাল ভেঙে ফেলেন।
এসময় শো-কেসের ভেতরে থাকা নগদ ছয় হাজার টাকাও পুলিশ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ফায়েক আলীর অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মিরাজ মোসাদ্দেক।
তিনি দাবি করেন, ‘আসামি রমজানকে ধরতে গিয়েছিলাম। রমজান ছিনতাইকারী, বোমাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী। প্রতিবেশীরা তাকে সহযোগিতা করে। সে কারণে প্রতিবেশীদের চাপের মুখে রাখা হয়েছে। বাড়িঘরের মালামাল ভাংচুর করা হয়নি। নগদ টাকা হাতানোর তো প্রশ্নই ওঠে না।’
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় খড়কী পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে কোতয়ালী থানার এসআই মাহমুদ ওই বাড়ির তরুণী বধূর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার শিকার তরুণী তার আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে থানায় এসে এই অভিযোগ করেন। সে সময় থানায় পুলিশ কর্মকর্তারা ছাড়াও পেশাগত কাজে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী এবং নানা কাজে আসা বেশ কিছু লোক ছিলেন। তরুণীর অভিযোগ শুনে সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তরুণীর হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমাভিক্ষা চান বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এক পর্যায়ে থানার সেকেন্ড অফিসার হস্তক্ষেপ করেন। তরুণীর স্বামীকে নাশকতার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তিনি বশে আসেন বলে অভিযোগ।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো রাতে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন