মাগুরা মির্জাপুর বালিকা বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ

আপডেট: 05:35:16 30/06/2016



img

শিমুল হাসান, মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার মির্জাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফুরকান আলী ও ধর্ম শিক্ষক ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
কোনো রেজুলেশন ছাড়া কোচিংয়ের নামে ১৫৬ ছাত্রীর কাছ ২০০ করে ও বিবাহিত এবং অন্য স্কুলে চলে যাওয়া ১৬ ছাত্রীর নামে বরাদ্দ উপবৃত্তির সব টাকা তারা দু’জন মিলে আত্মসাৎ করেছেন বলে ছাত্রী ও অভিভাবকদের অভিযোগ। কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগটি তাদের কানে এসেছে। ঈদের ছুটির পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলটির নবম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনার অভিযোগ, উপবৃত্তির তালিকায় নাম তোলার জন্য ধর্ম শিক্ষখ ফিরোজ হোসেন খরচ বাবদ ১০০ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, তালিকায় তার নাম নেই। পরে প্রধান শিক্ষক ফুরকান আলী ও ধর্ম শিক্ষক ফিরোজ হোসেন মিলে বিয়ের কারণে স্কুলে ছেড়ে যাওয়া এক ছাত্রীর নামের স্থানে তাকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে এক হাজার ৮০ টাকা তুলে তাকে (তহমিনাকে) দিয়েছেন মাত্র ৫০০ টাকা।
সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ফেরদৌসী ও নবম শ্রেণির ডলি জানায়, তাদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। বিবাহিত বা অন্য স্কুলে চলে যাওয়া ছাত্রীর স্থলে তাদের দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে অর্ধেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন শিক্ষকরা। এমন ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৬ ছাত্রীর ক্ষেত্রে।
শুধু তা-ই নয়, স্কুল কমিটির অনুমোদন ছাড়াই উপবৃত্তি পাওয়া সব ছাত্রীকে রুমে আটকে কোচিংয়ের কথা বলে ২০০ করে টাকা কেটে রাখা হয়েছে। অনিয়ম হচ্ছে বুঝেও কোনো ছাত্রী সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারেনি। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তারা ভয়ে আড়ষ্ট ছিল।
মির্জাপুর গ্রামের হাসি বেগম নামে এক ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে সই করিয়েও টাকা দেয়নি। এমনকী শাহেলা নামে এক প্রতিবন্ধী ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা তুলেও মেরে দিয়েছেন শিক্ষকরা।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফুরকান আলী মোবাইল ফোনে বলেন, ‘না বুঝে কিছু ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে আর হবে না।’
কোচিং বাবদ ২০০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ জন্য রেজুলেশন করতে হয়, তা আমার জানা নেই। এমন ভুল আর হবে না।’
অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে ধর্ম শিক্ষক ফিরোজ হোসেন নিজেই ফোন করেন সুবর্ণভূমি প্রতিবেদককে। বলেন, ‘সংবাদটি আজকে ছাড়ার দরকার নেই। দেখা করে ব্যবস্থা করছি।’
এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও কোচিংয়ের নামে উপবৃত্তি পাওয়া ছাত্রীদের ক্লাসরুমে আটকে ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ আমার কান পর্যন্ত এসেছে। স্কুলের সভাপতি হিসেবে শিক্ষকরা তাকে কিছু জানাননি। এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশনও করা হয়নি।’
মাগুরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মালারানী বিশ্বাস জানান, এখন স্কুলে ঈদের ছুটি চলছে। স্কুল খুললে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন