মাগুরায় মুক্তিযোদ্ধাদের কাদা ছোড়াছুড়ি

আপডেট: 07:54:16 20/04/2017



img

মাগুরা প্রতিনিধি : নেতৃত্বের কোন্দলকে কেন্দ্র করে ও মাগুরা সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকে সামনে রেখে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মাগুরা জেলা ইউনিটের নির্বাহী কমিটি এবং কমিটির বাইরের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।
উভয় পক্ষই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেওয়াসহ নানা ধরনের অভিযোগ করছেন।
গত ১৬ এপ্রিল মাগুরা প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে ‘সচেতন মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ’-এর ব্যানারে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তাদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মাগুরা জেলা ইউনিট কমান্ড।
সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ইউনিট কমান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলী বলেন, ‘দুর্নীতিপরায়ণ কিছু সুবিধাবাদী তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা অযৌক্তিকভাবে নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কামান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলীর সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পড়েন ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রহমান।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি কমান্ডার রেজাউর রহমান রিজু, সহকারী কমান্ডার বদরুল আলম, ডেপুটি কমান্ডার ওয়ালিদুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় জেলার শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহমান নির্বাচিত কমান্ড কাউন্সিলকে অবজ্ঞা, মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কটূক্তি, বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা, জেলা ও উপজেলা কমান্ডসমূহের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
এদিকে, ‘সচেতন মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ’-এর ব্যানারে গত ১৬ এপ্রিল মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মো. আবু জাফরের নেতৃত্বে সাংবাদিক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটিকে অযোগ্য, অদক্ষ ও দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ কমিটি বাতিল এবং কমিটি গঠনে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাগুরা সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর মাত্র একদিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই কমিটি থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের কমান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলীর নাম বাদ দেওয়া হয়।
এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে মোল্লা নবুয়ত আলী মাগুরা সদর উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি ‘নীতিমালা উপেক্ষা করে করে গঠন করা হয়েছে’ মর্মে অভিযোগ এবং কমিটি গঠন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এই রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী এবং একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তিন মাসের জন্য মাগুরা সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক পূর্ণব্রত চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহমুদ রেজা, মাগুরা জেলা প্রশাসক মুহ. মাহবুবর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলামসহ আজ জনের প্রতি রুল জারি করেন।
এদিকে, নেতৃত্বের কোন্দল ও আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠেয় মাগুরা সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকে সামনে রেখে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মাগুরা জেলা ইউনিটের নির্বাহী কমিটি এবং কমিটির বাইরের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তারা এখন পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন