মণিরামপুরে রাস্তা সংস্কার কাজ বন্ধ

আপডেট: 02:23:17 17/03/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের চিনাটোলা-মনোহরপুর ৫ কিমি পাকা সড়ক সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার দুপুরে সংস্কার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয়দের তোপের মুখে লোকজন সরিয়ে নিয়েছেন ঠিকাদারি সংস্থা। কাজ বন্ধের কথা স্বীকার করেছেন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারও।
সূত্র মতে, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চিনাটোলা টু মনোহরপুর ভাঙ্গাচুরা পাড়া সড়কটির পুনরায় সংস্কার কাজ শুরু হয়। কাজের ঠিকাদারি পান যশোরের বনান্তর কনস্ট্রাকশন। শুরু থেকেই কাজে নানা রকম অভিযোগ আসে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। নিম্ন মানের ইটের খোয়ার ব্যবহার, রাস্তা খুঁড়ে নতুন খোয়া না দেওয়াসহ দায়সারাভাবে কাজ চলতে দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি লেখালেখিতে দুই দিন কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসকে ম্যানেজ করে আবারও কাজ শুরু হয়। এরপরও দায়সারাভাবে কাজ চালাচ্ছিলো ঠিকাদার। ফলে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন রাস্তা সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তায় যে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে তা খুবই নিম্নমানের। তাছাড়া রাস্তায় ঠিকমত খোয়া পড়ছে না। আবার বিভিন্ন জায়গায় নতুন খোয়া না দিয়ে ট্রাকটর দিয়ে রাস্তা খুঁড়ে ধুলাবালিসহ তার ওপর দিয়েই রোলার চালিয়ে রাস্তা সমান করা হচ্ছে। এই রাস্তা পরিস্কার না করেই তার ওপর দিয়েই কার্পেটিং এর কাজ চলছিলো। তবে কার্পেটিং এ যে পাথর ব্যবহার করার কথা ছিল সেটাও নিম্নমানের। এসব কারণেই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।
শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘৩ নম্বর ইটের খোয়ার ব্যবহার, পরিমাণমত খোয়া না দেওয়া, কোথাও খোয়া দেয়া, আবার কোথাও না দেয়া ও সবকিছু কম কম করে ব্যবহার করার অভিযোগে জনগণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান ব্যস্ততার অজুহাতে প্রথমে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। পরে অবশ্য একপর্যায়ে তিনি রাজি হন। আবু সুফিয়ান কাজ বন্ধের কথাটি স্বীকার করে বলেন,‘যেভাবে কাজ করার কথা সেভাবেই কাজ চলছিল। কোথাও কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না।’
তিনি জানান, এই কাজের শুরুতে স্থানীয় একটি চক্র অনৈতিক সুবিধা দাবি করে আসছে। যার অডিও প্রমাণ সংশ্লিষ্টদের কাছে রয়েছে। এভাবে অবৈধ সুবিধা দাবি করলে কাজে কিছুটা অনিয়ম হতেই পারে মন্তব্য করেন আবু সুফিয়ান।

আরও পড়ুন